ইরানে হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, ফের যুদ্ধের আঁচ মধ্যপ্রাচ্যে

ইরানে হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, ফের যুদ্ধের আঁচ মধ্যপ্রাচ্যে

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের উপর ‘প্রি-এম্পটিভ’ বা আগাম সামরিক হামলা চালাল ইসরায়েল। অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রও যুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। শনিবার ভোরের এই হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত হয়েছে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও আরও ক্ষীণ হলো।

এক মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আমেরিকার হামলা চলছিল।

একই সময়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া একটি সূত্র জানায়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তেহরানে ছিলেন না; তাঁকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, “ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য যে হুমকি তৈরি হয়েছিল, তা দূর করতেই এই প্রি-এম্পটিভ হামলা।” ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা দফতরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় করেই কয়েক মাস ধরে এই অভিযান পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। হামলার সময়সূচিও আগেই চূড়ান্ত ছিল।

শনিবার তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েল জুড়ে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়। সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়, সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় আগাম সতর্কতা হিসেবে এই ব্যবস্থা।

পরিস্থিতির জেরে ইসরায়েলে স্কুল ও অধিকাংশ কর্মস্থল বন্ধ রাখা হয়েছে (জরুরি পরিষেবা ছাড়া)। বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিমানবন্দরে না যেতে নাগরিকদের অনুরোধ করেছে প্রশাসন।

উল্লেখ্য, গত জুন মাসে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে টানা ১২ দিন বিমানযুদ্ধ হয়েছিল। তার পরেই আমেরিকা ও ইসরায়েল সতর্ক করে দেয়—ইরান যদি পরমাণু ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এগিয়ে নেয়, তবে নতুন করে হামলা হতে পারে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা ও ইরান ফের আলোচনা শুরু করেছিল, যাতে দীর্ঘদিনের পরমাণু বিরোধ কূটনৈতিক পথে মেটানো যায়। কিন্তু ইসরায়েল জোর দিয়ে বলে, শুধু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ নয়, ইরানের পরমাণু পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙে দিতে হবে। পাশাপাশি, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির উপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি তোলে তারা।

অন্য দিকে, তেহরান জানায়, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে তারা পরমাণু কর্মসূচিতে নিয়ন্ত্রণে রাজি, তবে ক্ষেপণাস্ত্র প্রসঙ্গ আলোচনায় আনবে না। একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট করে দেয়, আক্রমণ হলে আত্মরক্ষা করবে। আগেই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল, ইরানে আমেরিকার হামলা হলে প্রতিবেশী দেশগুলিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতেও পাল্টা আঘাত আসতে পারে।

গত জুনে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় ইসরায়েলি অভিযানে যোগ দিয়ে আমেরিকা সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেয়—যা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে তাদের সবচেয়ে প্রত্যক্ষ অভিযান। তার জবাবে ইরান কাতারের আল উদেইদ মার্কিন ঘাঁটির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে।

পশ্চিমি শক্তিগুলির দাবি, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতার পক্ষে হুমকি এবং ভবিষ্যতে তা পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম হতে পারে। যদিও তেহরান বরাবরই বলছে, তাদের লক্ষ্য পারমাণবিক বোমা তৈরি নয়।