চলতি সপ্তাহেই দ্বিতীয় দফা আলোচনায় ফিরতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

চলতি সপ্তাহেই দ্বিতীয় দফা আলোচনায় ফিরতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

রয়টার্স

উপসাগরীয় যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে শুরু হওয়া শান্তি আলোচনার দ্বিতীয় দফা এই সপ্তাহের শেষ দিকেই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে এখনো কোনো তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।

পাকিস্তান ও ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান—উভয়ের কাছেই আলোচনা পুনরায় শুরুর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পাকিস্তানি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ইরান দ্বিতীয় দফা বৈঠকে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে এবং ইসলামাবাদ দুই পক্ষের সঙ্গেই সময় নির্ধারণের আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

ইসলামাবাদে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসের এক কর্মকর্তা বলে জানা গেছে, “পরবর্তী দফার আলোচনা এই সপ্তাহের শেষে অথবা আগামী সপ্তাহের শুরুতে হতে পারে।”

তবে মার্কিন পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ আসেনি। হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

গত সপ্তাহান্তে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র চার দিনের মাথায় আয়োজিত ওই বৈঠক কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি ছিল এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে দুই দেশের প্রথম সরাসরি বৈঠক—এবং ১৯৭৯ সালের ইরানি ইসলামি বিপ্লবের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ।

মার্কিন পক্ষে নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ।

বৈঠক শেষে ভ্যান্স সাংবাদিকদের জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের “চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম প্রস্তাব” দিয়েছে। ইরান তা গ্রহণ করে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আলোচনায় তিনটি মূল প্রশ্ন কেন্দ্রীয় হয়ে উঠেছে বলে জানা গেছে, হরমুজ প্রণালি: বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই জলপথ ইরান কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এটি পুনরায় খুলে দেওয়া হবেই।

পারমাণবিক কর্মসূচি: ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান এখনো দূরত্বে।

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা: তেহরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টিও আলোচনার টেবিলে রয়েছে।

মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান দুই পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে। তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সামরিক বাহিনী ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর—কোনো পক্ষই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।