এজাহার-সুরতহালে অসঙ্গতি, প্রভাব পড়বে মামলায়

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ছাত্রলীগের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে নিহত শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন ও এজাহারে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। চকবাজার থানার উপপরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন এই সুরতহাল প্রতিবেদনটি লিখেছেন।

এ কারণে মামলায় প্রভাব পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। সমকাল’র এক বিশেষ প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে আসে।

আবরারের সুরতহাল প্রতিবেদন লিখেছেন, ‘৭ অক্টোবর ভোর ৪টা ৭ মিনিটে বেতারযন্ত্রে তিনি জানতে পারেন, বুয়েটের শেরেবাংলা হলে সমস্যা হয়েছে। থানা থেকে তাকে তা দেখার জন্য বলা হয়। তিনি ওই সংবাদের ভিত্তিতে ফোর্স নিয়ে হলে গিয়ে উত্তর গেটের বারান্দায় একটি স্ট্রেচারে আবরারের মৃতদেহ পান। এরপর হলের সিকিউরিটি ইনচার্জ এ কে আজাদের শনাক্ত অনুযায়ী সুরতহাল তৈরি করেন।’

পুলিশের এই কর্মকর্তা সুরতহালে উল্লেখ করেন, ‘প্রকাশ্য ও গোপন তদন্তে তিনি জানতে পারেন, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা অজ্ঞাত কারণে আবরারকে মারধর করে গুরুতর জখম ও অচেতন অবস্থায় শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলার সিঁড়ির মাঝামাঝি ফেলে রেখে যায়। পরে খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে বুয়েটের চিকিৎসক মোহাম্মদ মাশুক এলাহী আবরারকে মৃত অবস্থায় পান।’

সুরতহাল প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ‘পুলিশ মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে আবরারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে (মর্গে) পাঠিয়েছে।’

তবে ৭ অক্টোবর রাতে আবরারের বাবা বরকতুল্লাহর দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, ‘আবরারকে কয়েকজন ছাত্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

এ বিষয়ে সুরতহাল প্রস্তুতকারী উপপরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ যে অবস্থায় পেয়েছেন, তাই উল্লেখ করেছেন। তিনি সরকারি গাড়িতে (পুলিশের গাড়ি) আবরারের লাশ মর্গে পাঠিয়েছেন। মামলার এজাহারে কী লেখা রয়েছে, তা তার জানার কথা নয়।’

তবে নিহত আবরারের এক স্বজন জানান, ‘আবরারের বাবা গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায় থাকেন। তিনি তো আসামিদের চিনতেন না, কীভাবে কী হয়েছে, তাও জানতেন না। ফুটেজ দেখে, ছাত্র ও হল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ আসামি চিহ্নিত করে এজাহার করেছে। আবরারের বাবা বাদী হিসেবে সেখানে সাক্ষ্য দিয়েছেন।’

সুরতহাল ও এজাহারে এমন অসঙ্গতির ফলে আবারার হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়বে কি-না? এমন প্রশ্নের জবাবে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘কোনো হত্যা মামলায় সুরতহাল প্রতিবেদন ও এফআইআর (এজাহার) গুরুত্বপূর্ণ। এ দুটির মধ্যে সমন্বয় না থাকলে, অসঙ্গতি থাকলে মামলার মেরিটে প্রভাব পড়ে। আসামি পক্ষের আইনজীবীরা ঘটনার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করবেন, সুযোগ নেবেন। কারণ বিচারক তো কাগজপত্রের ভিত্তিতে রায় দেবেন। বিষয়গুলো মামলা রেকর্ডকারী কর্মকর্তাদের দেখা উচিত ছিল। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও সতর্ক থাকতে হবে।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button