গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : কালীগঞ্জের বড়নগর দরগা এলাকার শরিফুল এবং তার স্ত্রী সুমার (ছদ্মনাম) বিয়ে হয়েছে প্রায় পাঁচ বছর আগে। সম্প্রতি যৌতুকের দাবীতে তাদের দু’জনের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে শরিফুলের শাশুড়ি তাকে ২০ হাজার টাকা যৌতুক দেন। কিন্তু যৌতুক না দেয়ার জন্য বিরোধিতা করেছিল সুমা। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রী দু’জনের মধ্যে ঝগড়া হয় এবং শরিফুল তার স্ত্রী সুমাকে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করে ভরণপোষণ দেয়া বন্ধ করে দেয়। এরপর পূণরায় আরো যৌতুক দাবী করে এবং সুমাকে মারধর করে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে শরিফুল।
এসকল বিষয়ের প্রতিকার চেয়ে গত ১৫ মে (শনিবার) সুমার মা বাদী হয়ে থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।
অভিযুক্তরা হলো- বড়নগর এলাকার মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে শফিকুল (২৫), অরিফুল এবং মকবুল হোসেনের স্ত্রী আকলিমা (৫০)।
ঘটনা তদন্তের দায়িত্বে পায় কালীগঞ্জ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হারুন অর রশিদ।
ভুক্তভোগী এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ দায়ের করার পর শনিবার এবং রোববার দু’দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি সমঝোতার জন্য দরবারের আয়োজন করে এএসআই হারুন।
সে অনুযায়ী বড়নগর দরগা এলাকার শফিকুলের(৫৫) বাড়িতে গত মঙ্গলবার (১৮ মে) বিকেল দরবারে বসেন এএসআই হারুনসহ উভয় পক্ষের লোকজন। সে সময় বিবাদী শরিফুলের মা আকলিম বেগম সকলের সামনে পুলিশকে ৬০ হাজার টাকা দেন। পরে এএসআই হারুন ২৫ হাজার টাকা লুকিয়ে রেখে ৩৫ হাজার টাকা সুমার মার কাছে বুঝিয়ে দেন এবং শরিফুলের সঙ্গে সুমার ডিভোর্স করিয়ে দেন। ডিভোর্স করান কালীগঞ্জ পৌরসভার ৫,৬ ও ৭ নং ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজী রুহুল আমিনের সহযোগী মোঃ মাহাবুবুর রহমান ঠান্ডা মৌলভী।
কালীগঞ্জ পৌরসভার ৫,৬ ও ৭ নং ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজী রুহুল আমিনের সহযোগী কাজী মোঃ মাহাবুবুর রহমান ঠান্ডা মৌলভী বলেন, “গত মঙ্গলবার বিকেলে উভয়পক্ষের সমোঝোতার ভিত্তিতে পুলিশের উপস্থিতিতে আমি ডিভোর্স কার্যক্রম সম্পূর্ণ করিয়েছি। টাকা লেনদেনের বিষয়টি আমার জানা নেই।”
দরবারে উপস্থিত থাকা শফিকুল বলেন, “থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ দুই দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরবর্তীতে সকলের সিদ্ধান্ত মতে মঙ্গলবার গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বাদীকে ৩৫ হাজার টাকা দেয়া হয়। এছাড়াও আরো ১৫ হাজার টাকা একটি এনজিও’তে জমা রয়েছে ভুক্তভোগী মেয়ের নামে। যা তাকে উঠিয়ে নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়াও আরো কিছু টাকা কাজী এবং এলাকার লোকজন এবং পুলিশের জন্য খরচ করা হয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “সমঝোতার ভিত্তিতে এএসআই হারুনের উপস্থিতে ঘটনার সমাধান করা হয়েছে।”
অভিযুক্ত আকলিমা বলেন, “ডিভোর্সের মাধ্যমে ঘটনার সমঝোতা করতে আমাদের মোট ৭৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, ”এএসআই হারুন প্রথম দিন তদন্তে আসার পর তিন হাজার টাকা দিয়েছিলাম।”
ঘটনা তদন্তের দায়িত্বে থাকা কালীগঞ্জ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হারুন অর রশিদ বলেন, ”অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে গেলে উভয় পক্ষ সমঝোতার জন্য সময় চেয়ে নেন। পরবর্তীতে মঙ্গলবার পূণরায় তদন্তে গেলে তারা বলেন ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে দু’পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়ে গেছে। তারা নিজেরাই ডিভোর্স করিয়েছে।”
অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ”আমার সঙ্গে কোন ধরনের টাকা লেনদেন করা হয়নি।”