কাপাসিয়ায় জামাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে পুরষ্কার পেল ২০ শিক্ষার্থী
গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : কাপাসিয়ায় মসজিদে গিয়ে একটানা ৬০ দিন ফজরের নামাজ আদায় এবং ৪০ দিন ‘তাকবীরে উলা’র সাথে জামাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের পুরষ্কার হিসেবে বাইসাইকেল পেল স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় পড়ুয়া ২০ মেধাবী ছাত্র।
বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) বাদ আছর সনমানিয়া ইউনিয়নের মামরদী উত্তরপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ চত্বরে নামাজ আদায় প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জনকারী ২০ ছাত্রকে বাইসাইকেল পুরষ্কার দেয়া হয়।

ব্যতিক্রমধর্মী মহতি এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে সনমানিয়ার মামরদী গ্রামের অধ্যাপক মাওলানা মোঃ তোফাজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে মামুরদী উত্তরপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।
মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, গ্রামের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্রদের মসজিদে এসে জামাতে নামাজ আদায়ের অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ ধরনের একটি উদ্যােগ নেয়া হয়েছে। আমাদের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি সাড়া পেয়েছি। জামাতে নামাজ আদায় প্রতিযোগিতায় প্রথমে ২৯ জন অংশ নিয়েছল। শেষ পর্যন্ত ২০ জন ছাত্র সম্পূর্ণভাবে সফল হয়েছে। এরা মাঝে মাঝে গভীর রাতে তাহাজ্জুদ নামাজও আদায় করেছে।
তিনি আরো বলেন, সবাইকে ৬ হাজার ২০০ টাকা মূল্যের ২০ টি ‘প্রিন্স সাইকেল’ দেয়া হয়েছে। এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তি ও কয়েকজন প্রবাসী নামাজ আদায় প্রতিযোগিতায় পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। বিষয়টি এলাকায় খুবই প্রশংসিত হয়েছে। বয়ষ্কদের নিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের একটি উদ্যােগ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বাইসাইকেল পুরষ্কার প্রদানের সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামাতে নামাজ আদায় প্রতিযোগিতার প্রধান উদ্যােক্তা হযরত মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন, সৌদিআরবের জেদ্দা জামে মসজিদের ইমাম এলাকার মাওলানা আবুল হোসেন, মাওলানা মোঃ মোফাজ্জল হোসেন, সমাজ সেবক আফসার উদ্দিন ও আমজাদ হোসেন প্রমূখ।
তাকবীরে উলা কি?
প্রথম তাকবীরে জামায়াতে শরীক হওয়াকে তাকবীরে উলা বলে। তাকবীরে উলা সম্পর্কে হাদিসে এসেছে – রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ﻣﻦ ﺻﻠﻰ ﺃﺭﺑﻌﻴﻦ ﻳﻮﻣﺎ ﻓﻲ ﺟﻤﺎﻋﺔ ﻳﺪﺭﻙ ﺍﻟﺘﻜﺒﻴﺮﺓ ﺍﻷﻭﻟﻰ ﻛﺘﺐ ﻟﻪ ﺑﺮﺍﺀﺗﺎﻥ : ﺑﺮﺍﺀﺓ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺎﺭ، ﻭﺑﺮﺍﺀﺓ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﻔﺎﻕ অর্থ→ “কেউ যদি আল্লাহর উদ্দেশ্যে চল্লিশ দিন তাকবীরে উলার সাথে জামাআতে নামাজ আদায় করে তবে তার জন্যে দুটি মুক্তির সনদ লিখে দেয়া হয়। একটি হল জাহান্নাম থেকে মুক্তি; অপরটি হল মুনাফিকী থেকে মুক্তি।”
(সুনানে তিরমিযী , হাদিস নং ২৪১, বাইহাক্বী, শু’আবুল ঈমান, হা/২৬১২)



