ফেসবুক, টুইটার ও অ্যাপ স্টোর ব্লক করেছে রাশিয়া
গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফেসবুক, টুইটার ও অ্যাপ স্টোর ব্লক করে দিয়েছে রাশিয়া। এছাড়া পশ্চিমা বেশকিছু সংবাদপত্রের ওয়েবসাইটও তারা ব্লক করেছে। খবর সি-নেট ও টেক টাইমস।
জার্মান সংবাদপত্র ডের স্পিগেল প্রতিবেদক ম্যাথিউ ভন রোর এক টুইটে লেখেন, টুইটার ও ফেসবুকের পাশাপাশি বিবিসি ও ডয়চে ভেলের মতো সংবাদমাধ্যমকে ব্লক করেছে রাশিয়া। এছাড়া অ্যাপলের অ্যাপ স্টোর বন্ধ করে দিয়েছে। গুগলের প্লে স্টোর এ ব্লকের আওতায় পড়েছে কিনা তা স্পষ্ট জানা যায়নি। বিশ্বের বৃহত্তম দেশটিতে প্লাটফর্মগুলো সক্রিয় কিনা, এ বিষয় নিশ্চিত করেনি ফেসবুক ও টুইটার। রাশিয়ার বিভিন্ন সংবাদপত্রে সতর্কতা বার্তা দেয়ার পর থেকে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকেই ফেসবুকের অ্যাকসেস সীমিত করে দিয়েছিল মস্কো। সি-নেটের প্রতিবেদনে বলা হয়, লাটভিয়াভিত্তিক সংবাদপত্র মেডুজা জানায়, রাশিয়ার ভূখণ্ডে তাদের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যাচ্ছে না।
সম্প্রতি রাশিয়ায় আইফোন, ম্যাক, আইপ্যাডসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি বন্ধ করার ঘোষণা দেয় অ্যাপল। ইউক্রেনের উপপ্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে সাড়া দিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেয় টিম কুক নেতৃত্বাধীন কোম্পানিটি। তবে অ্যাপ স্টোর ব্লকের সিদ্ধান্ত নেয়নি মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টটি। কিন্তু পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে নিজ ভূখণ্ডে অ্যাপ স্টোরের অ্যাকসেস সীমিত করে দেয় রাশিয়া। এতে অ্যাপলের অ্যাপভিত্তিক মার্কেট প্লেসটি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সম্প্রতি সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগলও রাশিয়ার বিভিন্ন সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে। রাশিয়া টুডে (আরটি) ও স্পুিনক নিউজের মতো রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন সাইট ব্লক করে দিয়েছে অ্যালফাবেট মালিকানাধীন কোম্পানিটি। তবে প্লে স্টোরের বিরুদ্ধে মস্কো কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ায় বিজ্ঞাপন ব্যবসা স্থগিত করেছে গুগল। ইউক্রেন-সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন সীমিত করতে রুশ সরকারের আহ্বানের পর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্টটি। এক বিবৃতিতে গুগলের মুখপাত্র মাইকেল অ্যাসিম্যান জানান, অভূতপূর্ব পরিস্থিতি সামনে রেখে রাশিয়ায় বিজ্ঞাপন স্থগিত করছি আমরা। পরিস্থিতি বেশ দ্রুত রূপ পরিবর্তন করছে এবং পরবর্তী যেকোনো আপডেট আপনাদের জানিয়ে দেয়া হবে।
উল্লেখ্য, আরটি ও স্পুিনক নিউজের অ্যাকসেস নিজ প্লাটফর্মে সীমিত করে দিয়েছে ফেসবুক ও ইউটিউব।
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞায় সাড়া দিয়ে আরো বেশ কয়েকটি মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট রাশিয়ায় তাদের কার্যক্রম সীমিত করে দিয়েছে। তবে কিছু অ্যাপ মাঝামাঝি অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করছে। রাশিয়ায় বিজ্ঞাপন বিক্রি বন্ধ করলেও যোগাযোগের টুল হিসেবে ইউক্রেন, রাশিয়া ও বেলারুশে সক্রিয় রয়েছে স্ন্যাপচ্যাট।
ওয়াশিংটন পোস্টের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রযুক্তিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার মার্কিন কৌশল বুমেরাং হিসেবে হাজির হতে পারে। সফট পাওয়ার হিসেবে প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্দেশ্য থাকে কোনো দেশের জনগণকে ওই দেশের শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে সাধারণ রুশ নাগরিক আইফোন ব্যবহার করতে পারছে না, কিন্তু জেনারেলরা ইউক্রেনে বিনা বাধায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে। প্রযুক্তিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারে মার্কিন অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর প্রভাব কমে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন অনেক বিশ্লেষক। এতে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানির বৈশ্বিক আধিপত্য সংকুচিত হয়ে যাবে বলে মনে করেন কেউ কেউ। চীন ও রাশিয়ার মতো সুপার পাওয়ার দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমা প্রযুক্তির বিকল্প নিয়ে আসছে। মার্কিন নির্ভরতা কমাতে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় চীন ও রাশিয়া শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে। নিয়মিত সোস্যাল সাইট ও প্রযুক্তি প্লাটফর্মের কার্যক্রম সীমিত করে দেয়ার কৌশল নিলে আরো অধিকসংখ্যক মানুষ বিকল্প প্লাটফর্মে অভ্যস্ত হয়ে পড়বে।
বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট পরিষেবা সহজলভ্য রাখার পক্ষপাতী মানবাধিকার সংস্থা অ্যাকসেস নাউয়ের মুখপাত্র পিটার মিসেক জানান, আমেরিকান প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সেবা বিচ্ছিন্ন করা হলে মানুষ বিকল্প খুঁজে নেবে।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের সুবিধা ও বিপত্তি নিয়ে নির্ঘুম দিন কাটছে মার্কিন সরকারি কর্মকর্তা ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শীর্ষ কর্তাদের।



