মেসির জোড়া গোলে নকআউটে আর্জেন্টিনা

এবার বিশ্বকাপে ২ ম্যাচে ৫ গোল দিলেন মেসি। এখন পর্যন্ত মেসিই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা।

মেসির জোড়া গোলে নকআউটে আর্জেন্টিনা

গাজীপুর কণ্ঠ, খেলা ডেস্ক

অপেক্ষা, হতাশা আর শেষ পর্যন্ত ইতিহাস! অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে যেন সবকিছুই একসঙ্গে উপহার দিলেন লিওনেল মেসি।

লিওনেল মেসির জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে হারাল আর্জেন্টিনা। প্রথম গোলে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েন মেসি (১৭ তম)।

এবার বিশ্বকাপে ২ ম্যাচে ৫ গোল দিলেন মেসি। এখন পর্যন্ত মেসিই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা।

২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘জি’ গ্রুপের শীর্ষে আর্জেন্টিনা। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট দ্বিতীয় অস্ট্রিয়ার। তৃতীয় জর্ডান ও চতুর্থ আলজেরিয়া পয়েন্ট পায়নি এখনো।

ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি থেকে রেকর্ড গড়ার সুযোগ হাতছাড়া করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তবে শেষ পর্যন্ত ৩৮ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে এককভাবে নাম লেখান তিনি। তার পর তো শেষ দিকে জোড়া গোল তুলে সেই রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করেছেন। তার জোড়া গোলেই শেষ পর্যন্ত অস্ট্রিয়াকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। টানা দ্বিতীয় জয়ে শেষ ৩২-ও নিশ্চিত হয়ে গেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের

লিওনেল মেসির জন্য রাতটা ছিল ইতিহাস গড়ার। ৯ মিনিটে স্পট কিক নিতে যাওয়ার সময় অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড বুঝি নিজের করে নিতে যাচ্ছেন কাতার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে সেই অপেক্ষার অবসান হয়নি। লক্ষ্যভ্রষ্ট শটে পেনাল্টি নষ্ট করে সুযোগ হাতছাড়া করেন তিনি। তবে মনে হচ্ছিল, ফুটবল দেবতাও যেন আরও বিশেষ কিছুর জন্য মুহূর্তটি তুলে রেখেছিলেন। সহজ কোনো গোল নয়, বরং নিজের স্বভাবসুলভ নৈপুণ্যে ইতিহাস গড়বেন মেসি।

১৯ মিনিটে আবারও গোলের কাছাকাছি পৌঁছে যান তিনি। লাউতারো মার্তিনেজ কোনোভাবে বল পৌঁছে দেন মেসির কাছে। তবে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের শট পা বাড়িয়ে ঠেকিয়ে দেন অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেক্সান্ডার শ্লাগার।

অবশেষে ৩৮ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। আক্রমণের সূচনা করেন থিয়াগো আলমাদা। বাম দিকে বল বাড়িয়ে দেন তিনি। সেখান থেকে ফাকুন্দো মেদিনা নিচু ক্রসে বল ফেরান বক্সের ভেতরে থাকা মেসির কাছে। কোনো সময় নষ্ট না করে প্রথম ছোঁয়াতেই জালে বল জড়িয়ে দেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

এই গোলেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লেখেন মেসি। মিরোস্লাভ ক্লোসেকে পেছনে ফেলে টুর্নামেন্টটির একক সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে যান তিনি।

বিরতির পরও আক্রমণের ধার বজায় রাখে আর্জেন্টিনা। মেসি, রদ্রিগো ডি পল ও লাউতারো মার্তিনেজের সমন্বিত আক্রমণে চাপে পড়ে অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগ। ৫০ মিনিটে গোলমুখে আরেকটি সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। শেষ মুহূর্তে নিকোলাস সাইভাল্ড বিপদ সামাল দেন। যদিও পরে অফসাইডের পতাকা ওঠে।

চার মিনিট পর ম্যাচে নিজেদের সেরা সুযোগগুলোর একটি তৈরি করে অস্ট্রিয়া। ফ্রি-কিক থেকে মার্সেল সাবিৎসারের জোরালো শট লক্ষ্যভেদী হলেও প্রস্তুত ছিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। শক্ত হাতে বল ফিরিয়ে দিয়ে আর্জেন্টিনাকে স্বস্তি এনে দেন বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক।

পরে তো ইতিহাস গড়া রাতটিকে আরও স্মরণীয় করে তোলেন মেসি। ৯০+৫ মিনিটে আক্রমণের সূচনা করেছিলেন তিনি নিজেই। মাঝমাঠ থেকে নিখুঁত পাসে বল পাঠান বাম দিকে থাকা হুলিয়ান আলভারেজের কাছে। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের প্রথম শটটি ঠেকিয়ে দেন অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেক্সান্ডার শ্লাগার। তবে ফিরতি বলে আবারও হাজির মেসি। প্রথম প্রচেষ্টাটি প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে প্রতিহত হলেও দ্বিতীয় চেষ্টায় আর ভুল করেননি তিনি। জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। কার্যত সেখানেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। 

এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৮-তে নিয়ে গেছেন মেসি। প্রথম ম্যাচে তিনি হ্যাটট্রিক করেছিলেন।