সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক সমঝোতা চান প্রধান নির্বাচন কমিশনার
গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংলাপ শুরু করেছে নতুন নির্বাচন কমিশন।
এই লক্ষ্যে রোববার (১৩ মার্চ) শিক্ষাবিদদের সাথে আলাপে বসেন কমিশনাররা।
শিক্ষাবিদদের সাথে অনুষ্ঠিত এ সংলাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হাবিবুল আউয়াল সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা জরুরি বলে মন্তব্য করেন। তা না হলে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দুরূহ হয়ে পড়বে বলে মনে করেন তিনি।
হাবিবুল আওয়াল বলেন, ‘‘রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা না হলে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দুরূহ হয়ে পড়বে।’’
তবে নির্বাচন কমিশনারের এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বলছে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দরকার নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার।
সংলাপের শেষে বক্তৃতায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক সমঝোতার উপর জোর দিয়ে বলেন, ‘‘দলগুলোর মধ্যে যদি মোটামুটি সমঝোতা না থাকে, পক্ষগুলো বিবাদমান হয়ে যায়, তাহলে আমাদের পক্ষে ভালোভাবে নির্বাচন করাটা দুরূহ। তাই রাজনৈতিক সমঝোতাটা গুরুত্বপূর্ণ। সমঝোতা হলে ইসির কাজ সহজ হবে।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘কিছু কিছু রাজনৈতিক দলকে দেখছি, তারা কোনোভাবেই নির্বাচন কমিশনকে আস্থায় নিচ্ছে না।” তিনি সবার আস্থা অর্জনে সচেষ্ট থাকার কথাও বলেন।
জানা গেছে, আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ ও অন্যান্য অংশীজনের সাথে সংলাপ চালিয়ে যাবে।
যা বললেন শিক্ষাবিদদরা
রোববার বিকেলে অনুষ্ঠিত সংলাপে ৩০জন শিক্ষাবিদকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তাদের মধ্যে সংলাপে ১৩ জন শিক্ষাবিদ উপস্থিত ছিলেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছাড়াও সংলাপে ছিলেন কমিশনার মো. আলমগীর, আনিসুর রহমান, রাশেদা সুলতানা এমিলি ও আহসান হাবীব খান।
জানা গেছে, উপস্থিত শিক্ষাবিদরা নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানোর উপর জোর দেন। তাছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনে আনার ব্যাপারেও কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান তাদের।
সংলাপে উপস্থিত শিক্ষাবিদদের একজন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেন, ‘‘আমরা যারা ছিলাম তারা বলেছি নির্বাচন কমিশনকে সবার আগে গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে হবে। কারণ আস্থার সংকট আছে। আর নির্বাচনের স্টেকহোল্ডার যারা আছেন তাদের নির্বাচনে আনতে হবে। বিশেষ করে যারা মাঠের বিরোধীদল ও তাদের মিত্রদের নির্বাচনে আনতে হবে।’’
এ ছাড়াও উপস্থিত শিক্ষাবিদরা নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন৷ তাদের যা ক্ষমতা আছে তা প্রয়োগ করে নির্বাচনের সময় প্রশাসনকে নিরপেক্ষ রাখার কথা বলেছেন।
নির্বাচন কমিশনারও আন্তরিকতার সাথে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন। বলেছেন, সবাইকে নির্বাচনে নিয়ে আসার পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে। আর ইভিএম তাদের কাছেও স্পষ্ট নয়। তাই এটা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন তারা।
রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য
এদিকে সংলাপের পর বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘‘এই ধরনের আলোচনা নির্বাচন কমিশন ২০০৮ সালে করেছে, ২০১৪ সালে করেছে। কোনো লাভ হয়নি। তাই এইসব ভাড়ামোপূর্ণ কাজ না করাই ভালো। আমরা আগেও বলেছি , এখনো বলছি নির্বাচন কমিশন নিয়ে আমরা ভাবছি না। আমরা মনে করি নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ছাড়া সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।’’
তার কথা, ‘‘নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন যেখানেই পরিবর্তন করা হোক না কেন ভালো নির্বাচন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া সম্ভব নয়। এটা প্রমাণিত হয়েছে।’’
এর জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘‘বিএনপি জানে যে, তাদের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেয়া সম্ভব নয়। তাদের দুই শীর্ষ নেতার একজন দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে ছিলেন। এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুকম্পায় বাসায় আছেন। আরেকজন শীর্ষ নেতা দণ্ডিত হয়ে পলাতক আছেন। তাদের কেউই নির্বাচনে অংশ নেয়ার যোগ্য নন। সে কারণেই বিএনপি নির্বাচনকে ভণ্ডুল করতে চায়। কারণ তারা জানে নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতায় যাওয়া সম্ভব নয়। তারা একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়। যদি একটি অসাংবিধানিক সরকার ক্ষমতায় আসে তাহলে তাদের কোনো সুবিধা হতে পারে। এ কারণেই তারা এসব করছে।”
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে সবার সাথে কথা বলে নির্বাচনব্যবস্থাকে আরো ভালো করতে পারবে তাহলে তারা সংলাপ করতেই পারে। এটা তাদের ব্যাপার৷ এই সংলাপকে আমরা স্বাগত জানাই।’’
সূত্র: ডয়চে ভেলে



