সন্তান প্রসবের পর নিখোঁজ মা, নবজাতকের ঠাঁই হলো ‘ছোট্ট মনি নিবাসে’

বিশেষ প্রতিনিধি : গাজীপুর শহীদ তাজ উদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জুলাই মাসের ১৮ তারিখে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী জন্ম দেন এক ফুটফুটে পুত্র সন্তানের। সন্তান জন্ম হওয়ায় কয়েক ঘণ্টা পর ওই মা হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান। অবশ্য ছয়দিন পর হাসপাতালে ফিরে এসে সন্তানকে বুকের দুধ পান করিয়ে আবার লাপাত্তা হয়ে যায়। এরপর তার আর কোনো সন্ধান মেলেনি।

অবশেষে ২২ দিন পর শনিবার (১৯ আগস্ট) ওই শিশুটির ঠাঁই হয়েছে ঢাকার আজিমপুরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের ‘ছোট্ট মনি নিবাসে’।

গাজীপুর সমাজসেবা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারীর নাম লিপি। বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। গত ২৭ জুলাই প্রসব বেদনায় কাতর হয়ে নিজে নিজেই গাজীপুর শহীদ তাজ উদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রবেশ করে। পরে হাসপাতালের লোকজন তাকে পরীক্ষা করে মা ও শিশু ওয়ার্ডে নিয়ে যায়। সে দিনই ওই নারী স্বাভাবিক প্রসবে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। সন্তান জন্ম দানের কয়েক ঘণ্টা পর তিনি শিশুটিকে রেখেই হাসপাতাল থেকে চলে যান। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও গাজীপুর সমাজসেবা অধিদপ্তর শিশুটির পরিচর্যা শুরু করেন। হঠাৎ ২ আগস্ট শিশুটির মা হাসপাতালে এসে শিশুকে বুকের দুধ পান করিয়ে আবার চলে যান। এরপরে আর ফিরে আসেননি। এ সময়গুলোয় হাসপাতালের নার্স, আয়াসহ সবাই শিশুটির পরিচর্যা করেন। সমাজসেবা বিভাগ শিশুটির প্রয়োজনীয় পোশাক ও অন্য জিনিসপত্রের সরবরাহ করে।

গাজীপুর সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক এস এম আনোয়ারুল করিম জানান, শিশুটির মা মানসিকভাবে অসুস্থ। একদিন শিশুকে দুধ পান করিয়ে আরে ফিরে আসেনি। শিশুর পিতারও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় বিষয়টি গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামকে জাননো হয়। এ নিয়ে তিনি গাজীপুর জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সভা আহ্বান করেন। সভায় শিশুটিকে রাজধানীর আজিমপুরে সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত ‘ছোট্ট মনি নিবাসে’ পাঠানো সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিশুটিকে শনিবার দুপুরে ‘ছোট্ট মনি নিবাসে’ পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মা সুস্থ হয়ে যদি শিশুটিকে ফিরে পেতে চান তবে তিনি তার সন্তান ফিরে পাবেন। এছাড়া কোনো সামর্থবান ব্যক্তি যদি শিশুটির দায়িত্ব নিতে চান, তাহলে আইনি প্রক্রিয়া অবলম্বন করে নিতে পারবেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button