যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভের প্রস্তুতি

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভের প্রস্তুতি

রয়টার্স : যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি শহরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী অভিযান ও সামরিক মোতায়েনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লস অ্যাঞ্জেলসের কিছু অংশে কারফিউ জারি করা হয়েছে।

টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট জানিয়েছেন, বিক্ষোভ মোকাবেলায় রাজ্যে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হবে। ইতোমধ্যে অস্টিনে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে।

লস অ্যাঞ্জেলসে ন্যাশনাল গার্ড এবং মেরিন মোতায়েনের সিদ্ধান্ত ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসোম বলেন, “এই ক্ষমতার অপব্যবহার একটি জটিল পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।”

ডেমোক্র্যাট গভর্নর নিউসোম ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এবং তার প্রশাসনকে সামরিক মোতায়েন বন্ধ করতে বলেছেন। ট্রাম্প পাল্টা হুমকিতে নিউসোমকে গ্রেফতারের আহ্বান জানান।

মঙ্গলবার প্রায় ৭০০ মার্কিন মেরিন লস অ্যাঞ্জেলসে পৌঁছায়। ৪,০০০ ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েনের নির্দেশও দিয়েছেন ট্রাম্প। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, তাদের ভূমিকা শুধুমাত্র সরকারি ভবন ও কর্মীদের সুরক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকবে।

লস অ্যাঞ্জেলসের মেয়র ক্যারেন ব্যাস জানান, অধিকাংশ বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ হলেও রাতে কিছু এলাকায় লুটপাট ও সহিংসতার ঘটনা ঘটায় ডাউনটাউনের এক বর্গমাইল এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ১৯৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যা এর আগে মোট গ্রেফতারের সংখ্যার দ্বিগুণ।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মঙ্গলবার নর্থ ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগে সেনাদের উদ্দেশে ভাষণে বলেন, “আমাদের সেনারা দেশের রক্ষা করেছে, তা নষ্ট হতে দেব না। ক্যালিফোর্নিয়ায় যা ঘটছে তা শান্তির উপর আক্রমণ।” তিনি বলেন, “আমরা লস অ্যাঞ্জেলসকে মুক্ত করব।”

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানায়, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) প্রতিদিন গড়ে ২,০০০ জনকে গ্রেফতার করছে, যেখানে ২০২৪ সালে বাইডেন প্রশাসনের সময় এই সংখ্যা ছিল ৩১১।

ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বন্টা বলেন, ফেডারেল সেনা যদি অভিবাসন অভিযানে অংশগ্রহণ করে, তবে ১৮৭৮ সালের পসিকমিটাস অ্যাক্ট লঙ্ঘনের আশঙ্কা রয়েছে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন ICE-এর সাথে ন্যাশনাল গার্ডের ছবি প্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর অভিযান চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

নিউ ইয়র্ক, আটলান্টা ও শিকাগোতেও বিক্ষোভ হয়েছে। শিকাগোর ডেলি প্লাজায় বিক্ষোভকারীরা আইসিকে বিলুপ্ত করার দাবিতে স্লোগান দেন।

টেক্সাসের গভর্নর অ্যাবট বলেন, “শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ আইনসঙ্গত, তবে সহিংসতা ও ভাঙচুরে গ্রেফতার করা হবে।”

এ সপ্তাহে সাউথ টেক্সাসেও বড় আকারের বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।