গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘর্ষ মঙ্গলবার পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে। এদিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানিদের প্রতি তেহরান শহর ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে একটি চুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় এই সংকট তীব্রতর হয়েছে।
সোমবার কানাডায় অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলন থেকে নির্ধারিত সময়ের আগেই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।
ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লেখেন, “ইরানকে আমি যে ‘চুক্তি’ সই করতে বলেছিলাম, তারা তা করলে আজ এই প্রাণহানির প্রয়োজন হতো না। স্পষ্ট করে বলছি, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না। সবাইকে এখনই তেহরান ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানাই!”
এদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, এবং ট্রাম্পের আগেভাগে সম্মেলন ত্যাগ করাও সেই লক্ষ্যে সহায়ক হতে পারে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে তেহরানে প্রবল বিস্ফোরণ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার ঘটনা ঘটে। তেহরান থেকে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার দূরের নাতাঞ্জেও আকাশ প্রতিরক্ষা সক্রিয় করা হয়, যেখানে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা।
তবে হোয়াইট হাউসের এক সহযোগী জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাচ্ছে—এই দাবি সঠিক নয়। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ফক্স নিউজকে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও পারমাণবিক চুক্তির পক্ষে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তার আঞ্চলিক স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এদিকে ইসরায়েলের তেল আবিব শহরে মঙ্গলবার রাতে আবারও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সাইরেন বাজানো হয়। ইরান বলছে, গত পাঁচ দিনে তাদের ২২৪ জন নাগরিক নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক। অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, তাদের ২৪ জন বেসামরিক নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৩,০০০ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক তৎপরতা
সূত্র বলছে, তেহরান ওমান, কাতার ও সৌদি আরবকে অনুরোধ করেছে যাতে তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যুদ্ধবিরতির জন্য ইসরায়েলকে চাপ দিতে বলেন। এর বিপরীতে ইরান পারমাণবিক আলোচনা নিয়ে নমনীয়তা দেখাবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ‘এক্স’-এ লেখেন, “যদি ট্রাম্প কূটনীতিতে আন্তরিক হন, তবে এখন থেকেই পদক্ষেপ জরুরি। ইসরায়েলকে অবশ্যই আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে; অন্যথায় আমাদের পাল্টা জবাব চলবে।”
নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি ও পারমাণবিক স্থাপনায় ক্ষতি
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির হুমকি নিরসনে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানান, বিকল্পভাবে সমাধান এলে ভালো, তবে তারা আগেই ৬০ দিনের সময় দিয়েছিল।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি বিবিসিকে বলেন, ইসরায়েলের হামলায় নাতাঞ্জ প্ল্যান্টের অন্তত ১৫,০০০ সেন্ট্রিফিউজ ধ্বংস হয়েছে।
চীনের নাগরিকদের ইসরায়েল ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে চীনা দূতাবাস। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ও আকাশপথ বন্ধ থাকায় সড়কপথে দ্রুত দেশ ত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
‘চুক্তি হবে’—আশাবাদী ট্রাম্প
ট্রাম্প বলেন, “আমি বারবার বলেছি, চুক্তি হবে বা কিছু একটা হবে। ইরান যদি না সই করে, তাহলে তা হবে মূর্খতার পরিচয়।”
জি-৭ সম্মেলনের খসড়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইরান পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না এবং ইসরায়েল আত্মরক্ষার অধিকার রাখে।” তবে ট্রাম্প এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করবেন না বলে জানানো হয়েছে।