গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : দেশের মানুষ বিএনপির দিকে তাকিয়ে আছে বলে উল্লেখ করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘সামনে অনেক কাজ, অনেক চ্যালেঞ্জ। সে ক্ষেত্রে বিএনপির পক্ষেই এখন দেশকে ধীরে ধীরে গড়ে তোলা সম্ভব। কারণ আমরা দেখেছি, স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ ও ১৯৭৫ সালে দেশ কীভাবে দুর্ভিক্ষে ছেয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমরা পরবর্তী সময়ে দেখেছি শহিদ জিয়ার আমলে কীভাবে আবার খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করার মাধ্যমে দুর্ভিক্ষকে দূর করে খাদ্য রপ্তানি করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘দেশকে কীভাবে পুনর্গঠন করতে হবে তা বিএনপি ভালোভাবেই জানে। বিএনপি দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনা করবে, এটিই জনগণ মনে করে। তাই আমাদের এখন ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’
রোববার (১০ আগস্ট) বিকেলে রাজশাহী মহানগর বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। প্রায় আধা ঘণ্টার বক্তব্যে তিনি নেতা-কর্মীদের মধ্যে ঐক্যের গুরুত্ব ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা অনেক আগেই রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা রূপরেখা দিয়েছি। আজকে অন্তর্বর্তী সরকার যে সংস্কার প্রস্তাব করছে, তার অধিকাংশই বিএনপির পূর্ববর্তী প্রস্তাবের সঙ্গে মিলে যায়। এ থেকেই প্রমাণিত হয়, আমরা বাস্তবভিত্তিক ও জনমানুষকেন্দ্রিক চিন্তা করি। দেশের অধিকাংশ জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রাখে। তাই আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
বেকার সমস্যা ও শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘দেশের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত ঢেলে সাজাতে হবে। যাতে জনগণ দেশে থেকেই সেবা নিতে পারে। আমাদের হাসপাতালগুলোকে এমনভাবে উন্নত করতে হবে, যাতে ধনী-গরিব সবার জন্য সমান চিকিৎসার সুযোগ থাকে।’
ফারাক্কা চুক্তির বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘ফারাক্কার কারণে পদ্মা নদী আজ শুকিয়ে যাচ্ছে। আমরা এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক আদালত ও জাতিসংঘে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। দেশের পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আগামী বছর রমজানের আগে নির্বাচনে মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপ বাস্তবায়িত হবে। এর পরও অনেক চ্যালেঞ্জ আছে।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার সরকারের পতনের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের সর্বাত্মক চেষ্টা ও সহযোগিতায় আমরা এ দেশ থেকে স্বৈরাচারকে বিতাড়িত করতে সফল হয়েছি। স্বৈরাচার এ দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তা আবার পুনর্গঠন করবে বিএনপি। সে লক্ষ্যের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছি আমরা।’
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘ক্ষমতায় এসে দেশ-বিদেশে দক্ষ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার আলো শিক্ষার্থীদের মাঝে পৌঁছে দিতে হবে। তাদের ভবিষ্যতের জন্য গড়ে তুলতে হবে।’
দ্বিবার্ষিক এই সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা। সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব মামুন অর রশিদ। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহীন শওকত খালেক, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আলিমুজ্জামান আলিম, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম মিলন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল হুদা, যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়ালিউল হক রানা, মতিউর রহমান মন্টু, আসলাম সরকার, মহানগর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ সুইট, বর্তমান আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান রিটন প্রমুখ।
২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বরে বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশাকে আহ্বায়ক ও মামুন অর রশিদ মামুনকে সদস্যসচিব করে রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর প্রায় সাড়ে তিন মাস পর আহ্বায়ক কমিটির পরিধি বাড়িয়ে ৬১ সদস্যের করা হয়। তার পর থেকে প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে আহ্বায়ক কমিটিতেই চলছে রাজশাহী মহানগর বিএনপি।
দেড় যুগ পর এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ায় সকাল থেকেই নেতা-কর্মীদের ঢল নামে। বিপুল লোকসমাগমের কারণে স্থানসংকুলান না হওয়ায় অনেকেই পদ্মা নদীর পাড় ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেন।



