কাতারের ‘নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি’ বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গাজা যুদ্ধের সমাধান প্রচেষ্টা এবং দোহায় ইসরায়েলি হামলার ক্ষয়ক্ষতির প্রেক্ষাপটে কাতারকে এক ধরনের “পুরস্কার” ও সান্ত্বনা হিসেবে নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
স্থানীয় সময় সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে সই করে ঘোষণা দেন, কাতারের ভূখণ্ড, সার্বভৌমত্ব বা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর যেকোনো সশস্ত্র হামলাকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করবে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন হলে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপের পাশাপাশি সামরিক প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থাও নেবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত গাজা ইস্যুতে কাতারের ভূমিকাকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সাম্প্রতিক দোহা হামলার পর ক্ষতিপূরণের মতোই প্রতীয়মান হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত মাসে ইসরায়েল দোহায় হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে নজিরবিহীন বিমান হামলা চালায়। সেই হামলায় কাতারের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হলেও হামাস নেতারা বেঁচে যান। ঘটনাটি আঞ্চলিক ক্ষোভ সৃষ্টি করে এবং উপসাগরীয় দেশটি ইসরায়েলের পদক্ষেপকে “ভীরু ও বিশ্বাসঘাতকতামূলক” বলে আখ্যা দেয়।
ঘটনার পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু কাতারি নাগরিক হত্যার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চান। হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর বৈঠকের সময় কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান বিন জসিম আল থানি সেই ক্ষমা গ্রহণ করেন। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কাতারের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার এই দৃঢ় প্রতিশ্রুতি আসে।
ট্রাম্প তার নির্বাহী আদেশে কাতারকে “এক অবিচল মিত্র” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দুই দেশ নিবিড় সহযোগিতা, অভিন্ন স্বার্থ ও সামরিক সম্পর্কের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। তিনি আরও যোগ করেন, বিদেশি আগ্রাসনের হুমকির মুখে কাতারের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা নিশ্চিত করা হবে।
এদিকে, ৯ সেপ্টেম্বর দোহা হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন বজায় রেখেও কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতে সচেষ্ট হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দোহায় গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানায়, তারা সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ভবিষ্যতে যেকোনো হামলার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
ফলে ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশ একদিকে যেমন কাতারের প্রতি আস্থার পুরস্কার, তেমনি সাম্প্রতিক দোহা হামলার পর তাদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রকার কূটনৈতিক সান্ত্বনাও বটে।
সূত্র: আল জাজিরা



