
গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, যারা সমাজবিরোধী, অপকর্মে লিপ্ত, জনগণের মনে ভয় সৃষ্টি করে, দুর্নীতিবাজ ও অপরাধী—তারা বিএনপির সদস্য হতে পারবেন না। কেবল দেশপ্রেমিক ও সজ্জন ব্যক্তিরাই এই দলের সদস্য হতে পারবেন।
শনিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে গাজীপুর শহরের ঐতিহাসিক রাজবাড়ি মাঠে ‘বিএনপির প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ ও ফরম বিতরণ কর্মসূচি–২০২৫’-এর প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, “যারা এখন নানা ধরনের বিতর্ক তৈরি করে বিভেদ সৃষ্টি করছেন, তারা কারও উপকারে আসবেন না। যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ না থাকি, তবে কেউই লাভবান হব না। আলোচনা হবে, মতভেদও থাকতে পারে—কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা যেন ঐক্য ভাঙতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “রাষ্ট্রের ভেতরে গভীর চক্রান্ত চলছে। পাশের দেশে যারা পালিয়ে গেছেন, তাদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই নতুন নতুন সুরঙ্গ খোঁড়া হচ্ছে।”
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খারাপ ধারাগুলো বাতিল করার উদ্যোগ নেওয়ায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুসকে ধন্যবাদ জানিয়ে রিজভী বলেন, “শেখ হাসিনার আমলে প্রণীত সন্ত্রাস দমন আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইন কেন এখনো বাতিল করা হচ্ছে না? এই কালাকানুন ব্যবহার করে শেখ হাসিনা অসংখ্য রাজনৈতিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। জনগণ এখন চায়, সব কালা আইন বাতিল হোক।”
ছাত্র রাজনীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক চর্চা থাকলে যে কেউ রাজনৈতিক দল গড়তে পারে, মত প্রকাশ করতে পারে। আপনারা ‘শাপলা’ প্রতীক চান, সেটা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে নিন। কিন্তু ধানের শীষ কেন চাইছেন? ধানের শীষ বিএনপির ৪৭ বছরের প্রতীক। এটা এমন যেন ছোট ভাই বলে, যদি আমাকে চকলেট না দেওয়া হয়, তবে বড় ভাইকেও দেওয়া যাবে না। এই ধরনের বিতর্ক ঐক্যের চেতনাকে নষ্ট করছে।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, “এই অযাচিত বিতর্কের সুযোগ নেবে পরাজিত শক্তি, লুটেরা গোষ্ঠী ও গণতন্ত্র হত্যাকারীরা।”
সভায় গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি মো. শওকত হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এম মঞ্জুরুল করিম রনির সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়্যেদুল আলম বাবুল, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মাহবুবুল ইসলাম, ডা. মাজহারুল ইসলাম, যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি জাকির হোসেন নান্নু, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ডা. জাহিদুল কবির জাহিদ এবং ডা. তেহিদুর রহমান আউয়াল প্রমুখ।



