ট্রাম্পের বিরুদ্ধেও দাঁড়াতে রাজি মামদানি

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত থেকে নিউইয়র্ককে রক্ষায় কোনো কার্পণ্য করবেন না বলে জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী জোহরান মামদানি। তিনি নিজেকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একমাত্র প্রতিরক্ষা হিসেবে দেখছেন বলে জানিয়েছেন। এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিষয়গুলো তুলে ধরেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র প্রার্থী মামদানি। আগামী মঙ্গলবার মেয়র নির্বাচন হবে।
মামদানি তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমাকে এখন যা সবচেয়ে ভীত করছে, তা হলো ট্রাম্পের পুতুল (কুয়োমা) না এই পদটি দখল করে নেয়! কুয়োমো হলেন সেই মানুষ, যিনি জানেন তার মেয়র হওয়ার পথ খুব সংকীর্ণ, আর তিনি সেই সংকীর্ণ পথকে ট্রাম্পের ধনকুবের দাতাদের অর্থ দিয়ে ভরিয়ে তুলতে চাইছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি এই নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনায় উচ্ছ্বসিত, কিন্তু আত্মবিশ্বাসকে কখনো আত্মতুষ্টিতে পরিণত হতে দেব না। প্রতিদিন নিজেকে, আমাদের কর্মী ও সমর্থকদের মনে করিয়ে দিই যে এই নির্বাচন আমাদের জিততে হবে, এটা কেউ হাতে তুলে দেবে না।’
প্রচারজুড়ে মামদানি নিজেকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর অবস্থানে থাকা প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তবে কুয়োমো বা রিপাবলিকান পার্টির মনোনীত প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়া সম্পর্কে তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা বলছেন, মামদানি খুবই অনভিজ্ঞ, আর ট্রাম্পের সঙ্গে সংঘাত সৃষ্টি করা নিউইয়র্কবাসীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। মামদানির প্রার্থিতা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরেও কিছু অস্বস্তি তৈরি করেছে।
এনবিসি নিউজ মামদানির কাছে প্রশ্ন রেখেছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে শিকাগো ও লস অ্যাঞ্জেলেসে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা আইসিই যেমন অভিযান চালিয়েছিল, তেমন কিছু নিউইয়র্কে হলে তিনি কী করবেন? মামদানি বলেন, ‘আমি নিউইয়র্কবাসীকে তাদের অধিকার স্মরণ করিয়ে দেব। স্পষ্ট করব যে আমরা এটা মেনে নেব না। আমাদের নীতির প্রতি গর্বিত থাকব এবং আদালতের আশ্রয় নেব। কারণ ট্রাম্প যেসব হুমকি দেন, সেগুলোর বেশির ভাগই আইন নয়, যদিও তিনি ভাবেন যে মুখে বললেই সেগুলো আইন হয়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ডেমোক্র্যাটিক নেতারা অন্যান্য রাজ্যে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে যেভাবে আইনি বিজয় পেয়েছেন, তিনিও একইভাবে নিউইয়র্কবাসীর পক্ষ হয়ে লড়বেন। তিনি বলেন, ‘এই সহযোগিতা ও দৃঢ়তার মনোভাব আমরা নিউইয়র্কে নিয়ে আসব।’
তবে ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করতে তার কোনো দ্বিধা নেই বলেও উল্লেখ করেছেন মামদানি। এই মেয়র প্রার্থী বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় ও ব্যয় সহনীয় করার বিষয় নিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত তিনি।
মামদানি বলেন, ‘আমি ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতেও প্রস্তুত, দেখা করতেও প্রস্তুত। তবে তা শুধু সব নিউইয়র্কবাসীর স্বার্থ রক্ষার শর্তে। আমার সমস্যা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলায় নয়, বরং কী নিয়ে কথা বলা হবে তা নিয়ে। ট্রাম্প যদি জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে কথা বলতে চান, আমি প্রস্তুত। কিন্তু যদি তিনি নিউইয়র্কবাসীকে ক্ষতিগ্রস্ত করার কোনো পরিকল্পনা করেন বা আরও এজেন্ট পাঠিয়ে পরিবারগুলোকে আতঙ্কিত করতে চান, শহরের বাজেট বা স্কুল তহবিল কেটে দিতে চান, কিংবা ১৮ বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো অনুদান আটকে দেওয়ার মতো হুমকি দেন, তাহলে আমি তার বিরুদ্ধে লড়ব।’
সরকারি অচলাবস্থা এক মাসে পৌঁছেছে, এতে নিউইয়র্ক সিটির প্রায় ১৮ লাখ বাসিন্দা খাদ্য-সহায়তা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। মামদানি বলেন, এই সংকট শেষ করতে এখনই রিপাবলিকানদের আলোচনায় ফিরতে হবে।
এদিকে তরুণদের মধ্যে মামদানির জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে। সম্প্রতি হার্ভার্ড ইনস্টিটিউট অব পলিটিক্সের গবেষকরা ২২ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের একটি গ্রুপের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের কাছে জানতে চেয়েছেন যে জীবনের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ কোনগুলোকে মনে করেন তারা এবং মেয়র নির্বাচনে তারা কাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তাদের কাছে মামদানি বিশেষ অগ্রাধিকার পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। ধারণা করা হচ্ছে, মামদানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে প্রচারের যে কৌশল অবলম্বন করেছেন, সেটিই জেন-জি ভোটারদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও জেন-জি ভোটাররা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবেন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।



