সৌদি আরব ও ইজরায়েলের চাপেই ইরানে হামলা
গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে ইতিহাস বদলে গেল এক রাতে। আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এই খবর নিশ্চিত করেছে। ইরান সরকার ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছেন, এই অভিযান “কমপক্ষে সপ্তাহব্যাপী” চলবে — যতক্ষণ না “মধ্যপ্রাচ্য এবং সারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা” হচ্ছে।
ওয়াশিংটন পোস্ট-এর খবর অনুযায়ী, এই হামলার পিছনে রয়েছে এক অভূতপূর্ব কূটনৈতিক লবিং। সৌদি আরব এবং ইজরায়েল — দুই ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বী — হাত মিলিয়ে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ট্রাম্পকে ইরানে হামলার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল। সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমান প্রকাশ্যে কূটনৈতিক সমাধানের কথা বললেও গোপনে গত এক মাসে ট্রাম্পকে একাধিকবার ফোন করে মার্কিন হামলার পক্ষে সওয়াল করেছেন।
পেন্টাগন এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘এপিক ফিউরি’, আর ইজরায়েলের তরফে নাম ‘রোরিং লায়ন’। পূর্ব সময় অনুযায়ী রাত ১টায় শুরু হয় এই হামলা — জাহাজ থেকে ছোড়া টমাহক ক্রুজ মিসাইল ও বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান থেকে একযোগে আক্রমণ শানানো হয় তেহরানে।
ইজরায়েলি বায়ুহামলায় তেহরানের এক কমপ্লেক্সে খামেনি নিহত হন। ঘটনার সময় তিনি শীর্ষ সহযোগীদের নিয়ে বৈঠকে ছিলেন।
ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই অভিযানের উদ্দেশ্য ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করা, দেশটির নৌবাহিনী নিশ্চিহ্ন করা এবং তেহরানে নেতৃত্ব বদল ঘটানো। ইরানি জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, “ইরান হবে তোমাদেরই — এই সুযোগ হয়তো প্রজন্মে একবারই আসে।”
ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে হামলা হয়েছে। ইজরায়েলেও বায়ু হামলার সতর্কতা জারি হয়।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা “এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়ে গেছে।” তবে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে অনিশ্চয়তা এখনও প্রবল। বিশ্বের তেলবাজারে দাম ছয় মাসের সর্বোচ্চে উঠেছে।



