নিজস্ব সংবাদদাতা : কালীগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষে হাবিবুর রহমান ওরফে হবি শিকদার (৬৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে দুই পক্ষের দু’জন। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার খলাপাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত হাবিবুর রহমান পৌরসভার দেওপাড়া এলাকার মৃত কালেব আলীর ছেলে। তিনি খলাপাড়ায় শ্বশুড়বাড়িতে থাকতেন।
আহতরা হলেন খলাপাড়া এলাকার নজরুল মোল্লার ছেলে সজিব মোল্লা (৩২) এবং ফজলুল হকের মেয়ে জেসমিন (৩০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খলাপাড়ার এমিগো বাংলাদেশ লিমিটেড (এবিএ) গেট এলাকায় সজিব মোল্লা ও তার ভাই সৌরভ মোল্লার (৪০) একটি গ্রিলের ওয়ার্কশপ রয়েছে। পাশেই রিপন শিকদারের আরেকটি গ্রিলের ওয়ার্কশপ। বৃহস্পতিবার বিকেলে সৌরভ মোল্লার সঙ্গে রিপন শিকদারের ছেলে ইকবাল শিকদারের (২৮) তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। স্থানীয়রা সে সময় দুজনকে থামিয়ে সমঝোতা করিয়ে দেন।

পরে সন্ধ্যায় সৌরভ মোল্লা, তার বাবা নজরুল মোল্লা, ভাই সজিব মোল্লা ও ফুপা হাবিবুর রহমানসহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে ইকবাল শিকদারের বাড়িতে হামলা চালায়। তখন বাড়িতে থাকা ইকবাল শিকদার, রিপন শিকদার (৪০), আল আমিন (২৫) ও জেসমিনসহ আরও কয়েকজন পাল্টা প্রতিরোধ করেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে হাবিবুর রহমান আঘাত পেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। সজিব মোল্লা গুরুতর এবং জেসমিন আহত হন।
আহতদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হাবিবুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন। সজিব মোল্লাকে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। জেসমিনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক শহিদুল ইসলাম বলেন, রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে হাবিবুর রহমানকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। আহত আরও দুজনের মধ্যে একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিয়াদুল ইসলাম বলেন, হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।