কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষে নিহত ১২: দুই গেটম্যান বরখাস্ত, তদন্তে তিন কমিটি

কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষে নিহত ১২: দুই গেটম্যান বরখাস্ত, তদন্তে তিন কমিটি

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : কুমিল্লার রেলপথের লেভেল ক্রসিংয়ে বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় দায়িত্বে থাকা দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। 

শনিবার দিবাগত রাত ২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ, দুইজন নারী ও তিনটি শিশু রয়েছে।

নিহতরা হলেন- যশোর জেলার পিন্টু ইসলামের স্ত্রী লাইজু আক্তার (২৬) ও তার দুই মেয়ে খাদিজা (৬) ও মরিয়ম (৩), চাঁদপুর জেলার চাপাতলি এলাকার মমিনুল হকের ছেলে তাজুল ইসলাম (৬৭), ঝিনাইদাহ জেলার মোক্তার বিশ্বাসের ছেলে জুহাদ বিশ্বাস (২৪), যশোর জেলার চৌগাছার সিরাজুল ইসলাম (৭০) ও কোহিনূর বেগম (৫৫), নোয়াখালী সোনাইমুড়ি বাবুল চৌধুরী (৫৫), মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর এলাকার ওহাব শেখের ছেলে ফচিয়ার রহমান (২৬), চুয়াডাঙ্গার জীবন নগরের বিল্লাল হোসেনের ছেলে সোহেল রানা (২৫), নোয়াখালী জেলার ফাজিলপুরের মো. সেলিমের ছেলে নজরুল ইসলাম রায়হান (৪৫), লক্ষ্মীপুর জেলার সদরের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে সাঈদা (৯)।

এ ঘটনায় রেলওয়ের দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের (চট্টগ্রাম) বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন।

একইসঙ্গে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পৃথক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসান।

তদন্ত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে এবং নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার ভোররাতে ঈদের দিন ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ারবাজার লেভেল ক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনটি ক্রসিং পার হওয়ার সময় চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি বাস রেললাইনে উঠে পড়লে সংঘর্ষ হয়।

এতে ঘটনাস্থলেই অন্তত ১২ জন নিহত হন এবং আহত হন আরও আটজন।

সংঘর্ষের পর দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া বাসটিকে ছেঁচড়ে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায় ট্রেন। দুর্ঘটনার সময় লেভেল ক্রসিংয়ে দায়িত্বে ছিলেন গেটম্যান মেহেদী ও হেলাল। তাদের দুজনকেই সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এদিকে এ দুর্ঘটনায় আহত আটজন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আবাসিক মেডিকেল অফিসার অজয় ভৌমিক সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, তাদের বেশিরভাগই মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। গুরুতর দুজনকে আইসিইউতে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া সামান্য আহত ১৮ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন বলে জানান তিনি।

এদিকে দুর্ঘটনার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর আখাউড়া থেকে একটি উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে বাসটি আপলাইন (ঢাকামুখী লাইন) থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং রেল চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ শুরু হয়।

কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইদ্রিস সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, গেটম্যানের অবহেলার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: বিডিনিউজ