গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আরেকটি মামলায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও জনতা পার্টি বাংলাদেশের মহাসচিব শওকত মাহমুদকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা শুনানি শেষে রাজধানীর শাহবাগ থানার মামলায় আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
শুনানি শেষে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে শুনানির জন্য কারাগার থেকে শওকত মাহমুদকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. আখতার মোরশেদ তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ৫ আগস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে।
উক্ত সংগঠনের ব্যানারে ২৮ আগস্ট সকাল ১০টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) অডিটোরিয়ামে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
মামলার এজাহারভুক্ত ১৬ জনসহ অজ্ঞাতনামা ৭০/৮০ জন ওই বৈঠকে অংশগ্রহণ করে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা ব্যক্তিদের কার্যক্রম পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, প্রকৃতপক্ষে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাৎ করার উদ্দেশ্যে তারা উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান করেছিলেন।
প্রাথমিক তদন্তে ওই ঘটনায় শওকত মাহমুদের জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার দলীয় লোকজনসহ একত্রিত হয়ে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারমূলক সভা করেছেন বলে জানা যায়।
সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে শওকত মাহমুদকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধের লক্ষ্যে গত বছরের ৫ আগস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
জাতির অর্জনকে মুছে ফেলার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আত্মত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়া এ সংগঠনের উদ্দেশ্য।
প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত বছরের ২৮ আগস্ট সকাল ১০টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠান শুরু হয়।
এরই মধ্যে শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিরুল ইসলাম বেতারের মাধ্যমে সেগুনবাগিচাস্থ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির অডিটরিয়মে যাওয়ার জন্য নির্দেশনা পান। পনেরো মিনিট পর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন বেশকিছু লোক অডিটরিয়াম ঘেরাও করে, কিছু লোককে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বলে স্লোগান দিচ্ছে। ওইসময় মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিতে থাকা সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে পুলিশ হেফাজতে নেয়।
সেখানে উপস্থিত লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারেন, ‘মঞ্চ ৭১’ এর ব্যানারকে পুঁজি করে প্রকৃতপক্ষে দেশকে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে অস্থিতিশীল করে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র ও উপস্থিত অন্যদের প্ররোচিত করে বক্তব্য প্রদান করছিলেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।
এই ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্যের জন্য উপস্থিত লোকজন তাদের ঘেরাও করে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বলে স্লোগান দিচ্ছিল।
আবদুল লতিফ সিদ্দিকীসহ অজ্ঞাতনামা ৭০/৮০ জন পরস্পর সহায়তাকারী হিসেবে দেশকে অস্থিতিশীল করে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার অপরাধ করার অভিযোগে ওই অনুষ্ঠান থেকে সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে আটক করা হয়।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করে আটককৃতদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরদিন ২৯ আগস্ট আদালতে হাজির করা হয়।
এরা হলেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন), মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন, মঞ্জুরুল আলম, কাজী এটিএম আনিসুর রহমান বুলবুল, গোলাম মোস্তফা, মো. মহিউল ইসলাম ওরফে বাবু, মো. জাকির হোসেন, মো. তৌছিফুল বারী খাঁন, মো. আমির হোসেন সুমন, মো. আল আমিন, মো. নাজমুল আহসান, সৈয়দ শাহেদ হাসান, মো. শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, দেওয়ান মোহম্মদ আলী ও মো. আব্দুল্লাহীল কাইয়ুম।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৭ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শওকত মাহমুদকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে রমনা থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ১১ ডিসেম্বর পাঁচদিন রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।