হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত ঘোষণা ইরানের, ট্রাম্পের ‘ধন্যবাদ’

এখন থেকে প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজকে আইআরজিসির অনুমতি নিতে হবে।

হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত ঘোষণা ইরানের, ট্রাম্পের ‘ধন্যবাদ’

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক

লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ঘোষণা করেছে ইরান। 

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক্স পোস্টে জানান, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার ১০ দিন গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি খোলা থাকবে।

এই ঘোষণার পরপরই ইরানকে ধন্যবাদ জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘ইরান এইমাত্র ঘোষণা করেছে যে হরমুজ প্রণালি এখন পুরোপুরি খোলা এবং জাহাজ চলাচলের জন্য প্রস্তুত। ধন্যবাদ!’ তবে ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরে মার্কিন নৌ-অবরোধ অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।

আইআরজিসির অনুমতি বাধ্যতামূলক

তবে হরমুজ প্রণালি পার হতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) অনুমতির প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের একজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তিনি বলেন, এখন থেকে প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজকে আইআরজিসির অনুমতি নিতে হবে।

তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একজন ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন পতাকাধারী জাহাজসহ সব বাণিজ্যিক জাহাজ পারাপারের অনুমতি পাবে। নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ এই অনুমতির আওতায় পড়বে না।

লেবাননে যুদ্ধবিরতি

বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর তিনটা থেকে লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, যা ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা ইরানের অন্যতম দাবি ছিল। এর আগে ৮ এপ্রিল ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ইরান ও মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান বরাবরই বলে আসছিল, লেবানন ওই যুদ্ধবিরতির আওতাভুক্ত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তা অস্বীকার করে এবং ইসরায়েল লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানে প্রায় তিন হাজার মানুষ নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও আছেন। পাল্টা হামলায় ইরান জর্ডান, ইরাক, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ প্রায় এক ডজন দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে নিশানা বানায়। এই সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের বিমান পরিবহন ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে এবং জ্বালানি পণ্যের বৈশ্বিক বাজারে তৈরি হয়েছে তীব্র অস্থিরতা।

বর্তমানে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হবে। এর আগে গত শনিবার ইসলামাবাদে সরাসরি শান্তি আলোচনায় বসেন মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা, তবে কোনো সমঝোতা ছাড়াই সে বৈঠক শেষ হয়। এরপর সোমবার থেকে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ শুরু করে মার্কিন বাহিনী। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের বাইরে ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন, দুই দেশ যুদ্ধবিরতি চুক্তির ‘খুব কাছাকাছি’ রয়েছে।

ইউরেনিয়াম নিয়ে ট্রাম্পের দাবি

এদিকে ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্র পাবে। তিনি এই ইউরেনিয়ামকে ‘পারমাণবিক ধূলা’ বলে উল্লেখ করে জানান, এ বিষয়ে কোনো অর্থ লেনদেন হবে না এবং চুক্তিটি লেবাননের পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল হবে না।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত মাত্রায় সমৃদ্ধ ৪০০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে, যা দিয়ে নয়টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি সম্ভব। অস্ত্র তৈরিতে প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধ মাত্রার খুব কাছেই রয়েছে ইরানের এই মজুত। ট্রাম্পের দাবির বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।