দেশের ইতিহাসে প্রথমবার গর্ভস্থ শিশুকে দেওয়া হলো এ্যানেস্থিয়া

গর্ভস্থ শিশুটি ফিটাল হাইড্রোপস নামক একটি জটিল রোগে আক্রান্ত ছিল, সঙ্গে ছিল তীব্র রক্তশূন্যতা।

দেশের ইতিহাসে প্রথমবার গর্ভস্থ শিশুকে দেওয়া হলো এ্যানেস্থিয়া

বিশেষ প্রতিনিধি

দেশের একটি সরকারি হাসপাতালে প্রথমবারের মতো গর্ভস্থ শিশুর শরীরে সফলভাবে এ্যানেস্থিয়া বা অজ্ঞান করার চিকিৎসা প্রয়োগ করা হয়েছে।

গত ৩০ জুন (মঙ্গলবার) রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মা ও গর্ভস্থ শিশুর বিশেষায়িত চিকিৎসা ইউনিটে এই জটিল ও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সম্পন্ন হয়।

গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়।

গর্ভস্থ শিশুটি ফিটাল হাইড্রোপস নামক একটি জটিল রোগে আক্রান্ত ছিল, সঙ্গে ছিল তীব্র রক্তশূন্যতা। চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেন শিশুটিকে রক্ত সঞ্চালন করার। কিন্তু গর্ভবতী মায়ের তখন ২৭ সপ্তাহ চলছিল, ডেলিভারির আরও প্রায় দুই মাস বাকি। তাই গর্ভেই শিশুকে রক্ত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়, যা দেশে প্রথমবারের মতো করা একটি কাজ।

রক্ত সঞ্চালনের সময় শিশুটি প্রচুর নড়াচড়া করছিল বলে তাকে এ্যানেস্থিয়া দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। চিকিৎসকরা গর্ভেই থাকা অবস্থায় শিশুটিকে অ্যাট্রাকিউরিয়াম নামক ওষুধ প্রয়োগ করে এ্যানেস্থিয়া প্রদান করেন। দেশের ইতিহাসে এমন ঘটনা এই প্রথম বলে জানানো হয়েছে।

এ্যানেস্থিয়া প্রদান করেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোঃ শরীফ হোসাইন ও সহকারী অধ্যাপক ডা. আসাদুল মজিদ হিলালী (নোমান)। পুরো প্রক্রিয়া তত্ত্বাবধান করেন এ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. রেহান উদ্দিন খান।

চিকিৎসা কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন হাসপাতালের ফিটো-ম্যাটার্নাল মেডিসিন ইউনিটের প্রধান ডা. খন্দকার শেহনীলা তাসমিন।

তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সুলতানা আফরোজ, অধ্যাপক ডা. ইসরাত জাহান এবং অধ্যাপক ডা. খালেদুন্নেসা।

এ ছাড়া শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আইনুল ইসলাম খান, রক্ত সঞ্চালন বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান এবং হেমাটোলজি বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. মির্জা গোলাম সারওয়ার এই চিকিৎসা কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন।