গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
যশোর-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গোলাম রসুল ও তাঁর মেয়ের বিরুদ্ধে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় গিয়ে বিরোধে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এর জেরে এলাকাবাসী মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে তাঁদের বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, গোলাম রসুলের বাড়ির সামনে অবস্থিত আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ ও সংলগ্ন মসজিদে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এমপি পরিবারের সঙ্গে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিরোধ চলছিল।
সোমবার এমপিকন্যা অনন্যা মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি দেখান বলে অভিযোগ ওঠে, যা পুলিশের মধ্যস্থতায় মীমাংসা হয়।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে গোলাম রসুল ও তাঁর মেয়ে ফের মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে বিরোধে জড়ান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এ সময় রেক্সোনা নামের এক স্থানীয় নারীর মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নাসির উদ্দিন নামের এক অভিভাবকের ওপরও চড়াও হন অনন্যা।
ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এমপির বাসভবন ঘেরাও করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সংসদ সদস্য ও তাঁর মেয়ে বাসভবনের মূল ফটক বন্ধ করে নিজেদের অবরুদ্ধ করেন।
বিক্ষোভকারীদের একাংশ অভিযোগ করেন, মাদ্রাসাটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
খবর পেয়ে যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, সোমবারের বিরোধের জের ধরে মঙ্গলবার ফের এমপিকন্যার সঙ্গে এলাকাবাসীর ঝামেলা হয়, যার জেরে বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। তিনি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করে এমপি পরিবারকে নিরাপত্তা দিয়েছে।
ফেসবুক লাইভে এসে গোলাম রসুল দাবি করেন, মাদ্রাসায় যাতায়াতের রাস্তাটি তাঁদের কেনা জমির ওপর দিয়ে যাওয়ায় তা সচল রাখা প্রয়োজন, আর এ নিয়েই তাঁর মেয়ের সঙ্গে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বাদানুবাদ হয়। তিনি ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে মিলেমিশে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তিনি মেয়েকে মানসিক ভারসাম্যহীন দাবি করে জানান, ভারতের হায়দরাবাদসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা করানো হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাড়িতে দাহ্য পদার্থ এনে রাখা হয়েছে বলে তিনি আতঙ্কিত।
ওসি মাসুম খান অবশ্য বলেন, সংসদ সদস্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যা বলেছেন তা তাঁর ব্যক্তিগত মতামত, এ বিষয়ে পুলিশের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।