বারির উদ্ভাবিত প্রযুক্তির সংখ্যা দাঁড়াল ১৩৭৩টি

বারির উদ্ভাবিত প্রযুক্তির কারণে দেশে তেলবীজ, ডালশস্য, আলু, সবজি, মসলা ও ফলের উৎপাদন ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

বারির উদ্ভাবিত প্রযুক্তির সংখ্যা দাঁড়াল ১৩৭৩টি

বিশেষ প্রতিনিধি

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) এ পর্যন্ত মোট এক হাজার ৩৭৩টি কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞানীরা।

এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ফসলের ৬৮১টি উচ্চ ফলনশীল জাত—যার মধ্যে হাইব্রিড জাতও অন্তর্ভুক্ত—এবং বাকি ৬৯২টি অন্যান্য উৎপাদন প্রযুক্তি। নতুন জাতগুলো রোগ প্রতিরোধী এবং বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশে চাষোপযোগী বলে দাবি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) গাজীপুরে বারি, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি), গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (জিএইউ), জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমি (এনএটিএ) ও বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি (এসসিএ)-সহ কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় বারির অভ্যন্তরীণ গবেষণা পর্যালোচনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন কর্মশালা-২০২৬।

কৃষি সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদের সভাপতিত্বে বারির কাজী বদরুদ্দোজা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বারির মহাপরিচালক ড. মো. মনজুরুল কাদির। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা কার্যক্রম ও সাফল্য নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষণা পরিচালক ড. ফারুক আহমেদ।

কর্মশালায় নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তুলে ধরেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি কে এম মুস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম, জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমির মহাপরিচালক মো. সাইফুল আজম খান এবং বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির পরিচালক ড. মো. সাইফুল আলম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, সময়ের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে বিজ্ঞানীদের গবেষণা কার্যক্রম আরও এগিয়ে নিতে হবে। প্রতিকূল আবহাওয়া উপযোগী জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

বারির প্রটোকল অফিসার মো. হাসান হাফিজুর রহমান জানান, বারির উদ্ভাবিত প্রযুক্তির কারণে দেশে তেলবীজ, ডালশস্য, আলু, সবজি, মসলা ও ফলের উৎপাদন ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এসব প্রযুক্তির উপযোগিতা যাচাই এবং দেশের বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের কর্মসূচি নেওয়াই এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে হাতে নেওয়া গবেষণা কর্মসূচিগুলোর মূল্যায়ন এবং সেই অভিজ্ঞতার আলোকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের গবেষণা কর্মসূচি প্রণয়নের লক্ষ্যেই এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, নার্সভুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বিএডিসি এবং কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বারির বিভিন্ন বিভাগের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তারা অংশ নেন।