গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
প্রিজন ভ্যান থেকে শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত রাজা ওরফে পিচ্চি রাজার পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, প্রথমে গাজীপুরের বাইমাইলের কথা বলা হলেও তিনি আসলে ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকে পালিয়েছেন।
শনিবার (০৩ অক্টোবর) দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৭ সেপ্টেম্বর কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৩০ আসামিকে ঢাকার আদালতে নেওয়া হয়েছিল। ফেরার পথে রাতে শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে ৩০ বছর বয়সী পিচ্চি রাজা পালিয়ে যান। বাকি ২৯ জনকে কারাগারে পৌঁছে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর পুলিশ জানিয়েছিল, রাত সাড়ে আটটার দিকে গাড়িটি বাইমাইলে পৌঁছালে একজন উপপরিদর্শক তাকে নিচে নামান, আর তখনই তিনি দৌড়ে পালান। সাত দিনেও তাকে ধরা সম্ভব হয়নি।
দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রিজন ভ্যানের সঙ্গে থাকা এসআই প্রবীর কুমার, কনস্টেবল জাকির হোসেন, সাকিব ও শাকিল হোসেন এবং চালক নায়েক কামাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তদন্তে গঠিত পর্যবেক্ষণ কমিটির জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রবীর কুমার ও কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি তিনজন নজরদারিতে আছেন।
কমিটি বলছে, পাঁচজনই পালানোর স্থান নিয়ে বারবার ভিন্ন কথা বলছেন এবং এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক তথ্য দেননি।
কমিটির প্রধান ও গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (সিটি এসবি) মোহাম্মদ মহিউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তারা “সঠিক কোনো তথ্য দিচ্ছেন না”। তার ভাষ্য, আগে যে স্থানের কথা বলা হয়েছিল, সেটিও সঠিক নয় বলে জানা গেছে।
কমিটির সদস্য ও কোনাবাড়ী থানার ওসি ইফতেখার হোসেন জানান, কারাগার থেকে আদালতে যাওয়া-আসার পথে প্রিজন ভ্যান থামানোর সুযোগ নেই। জরুরি পরিস্থিতিতে কাছের থানায় থামার নিয়ম আছে। তিনি বলেন, অভিযুক্তরা যেখানে থামার কথা বলছেন, সেখানে থামার প্রশ্নই ওঠে না। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম শুরু হবে বলেও তিনি জানান।
মামলাটি তদন্ত করছে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। সংস্থাটির উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সাহেব আলী পাঠান প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ সদস্যরা ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিলেও প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে পিচ্চি রাজা তাঁতীবাজার থেকে পালিয়েছেন। তার ভাষ্যে, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার দুজনের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে।
চলতি বছরের ১৯ মে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
সূত্র: প্রথম আলো