গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাজ্যের একটি বিমান ঘাঁটি থেকে সব মার্কিন বোমারু বিমান সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি ওই ঘাঁটির কাছে সন্ত্রাসী হামলাচেষ্টা চালানোর সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের পর এ সিদ্ধান্ত নিল ওয়াশিংটন।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, রোববার মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লন্ডনের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত রয়্যাল এয়ার ফোর্সের ফেয়ারফোর্ড (আরএএফ) বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি বি-১ মডেলের বোমারু বিমান মোতায়েন ছিল। ইরানে মার্কিন হামলা চালাতে এসব বিমান ব্যবহার করা হয়।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক মুখপাত্র ই-মেইলে বলেন, অভিযানের নিরাপত্তার স্বার্থে মিত্র দেশগুলোর ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সামরিক সম্পদ ও মার্কিন সেনাদের যোগাযোগের তথ্য সে সময় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে ওয়াশিংটন এখন নিশ্চিত করতে চায়, ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সব বোমারু বিমান নিজ দেশের ঘাঁটিতে ফিরে গেছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম গত বুধবার দাবি করেছিলেন, ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে সন্দেহভাজন হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে ইরান জড়িত থাকার ‘জোরালো ইঙ্গিত’ পেয়েছে যুক্তরাজ্য।
তবে ওই হামলা পরিকল্পনার সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ দাবি করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। এ অভিযোগের জেরে তেহরানে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকেও তলব করে ইরান কর্তৃপক্ষ।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর গ্লুচেস্টারশায়ারের রয়্যাল এয়ার ফোর্স ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে তিনটি সন্দেহজনক ভ্যান চলাচলের খবর পায় পুলিশ। পরে অভিযান চালিয়ে ভ্যানগুলোতে বিস্ফোরক সদৃশ বস্ত পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, এগুলো তাৎক্ষণিকভাবে তৈরি করা বিস্ফোরক যন্ত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
এ ঘটনায় সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাজ্যের কাউন্টার টেরোরিজম পুলিশ। সেই সঙ্গে ঘাঁটিতে হামলাচেষ্টার প্রস্তুতিতে ইরান জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানায় বাহিনীটি।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের জেরে কার্যত অচল হয়ে পড়ে জ্বালানি পরিবহন ও জাহাজ চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। ইরানি বাধা উপেক্ষা করে প্রণালিতে চলাচলকারী একাধিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান। সে সময় ইরানি হামলা প্রতিরোধে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানতে ফেয়ারফোর্ডে মোতায়েন থাকা মার্কিন বোমারু বিমান ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল ব্রিটিশ সরকার।