গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সৌদি আরবের রিয়াদ ও আবহা বিমানবন্দরে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিদের হামলার পর দেশটির বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদ বিমানবন্দর থেকে বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) বাতিল হয়েছে কয়েক ডজন ফ্লাইট। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন এয়ারলাইনও ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
সংঘাতের কারণে সিঙ্গাপুর এয়ার রিয়াদে নতুন ফ্লাইট চালুর সময় পিছিয়ে ২৮ মার্চ করেছে। ফিলিপাইন এয়ারলাইনস অন্তত ১১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে।
সৌদির রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা সৌদিয়া, ইজিপ্টএয়ার, ইন্ডিগো ও এয়ার ইন্ডিয়াও রিয়াদ থেকে নির্ধারিত বহু ফ্লাইট বাতিল করেছে। ইয়েমেন থেকে একের পর এক হামলার কারণে গত কয়েক দিনে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম কয়েক ঘণ্টা করে একাধিকবার বন্ধ রাখতে হয়েছে। হামলার ঝুঁকিতে সৌদিতে উড়োজাহাজ ওঠানামাও অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আবহা বিমানবন্দরেও হামলা হয়েছে।
বিমান চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর বিকেল ৪টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত রিয়াদ থেকে নির্ধারিত ৩৭৮টি ফ্লাইটের মধ্যে ১৬৯টি বাতিল হয়েছে বা পরিচালিত হয়নি।
এ ছাড়া রিয়াদে আসা ফ্লাইটের অবস্থাও নাজুক। নির্ধারিত ৩৬৯টি আগমন ফ্লাইটের মধ্যে ১২৪টি বাতিল হয়েছে বা পরিচালিত হয়নি।
সৌদিয়ার প্রায় ৭০ শতাংশ ফ্লাইট বন্ধ
দেশটিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সৌদিয়া। রিয়াদ থেকে তাদের নির্ধারিত ১৪০টি ফ্লাইটের মধ্যে ৯৭টি বাতিল হয়েছে বা উড্ডয়ন করেনি।
এ ছাড়া রিয়াদগামী সৌদিয়ার ১৩৬টি ফ্লাইটের মধ্যে ৮৭টিও বাতিল হয়েছে বা পরিচালিত হয়নি। ফ্লাইনাসের ৯১টি বহির্গামী ফ্লাইটের মধ্যে ৩০টি এবং ফ্লাইএডিলের ৫৪টির মধ্যে ২০টি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রিয়াদ এয়ারের ১৫টির মধ্যে দুটি ফ্লাইট বাতিল বা বন্ধ রয়েছে।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটেও বড় ধাক্কা
টার্কিশ এয়ারলাইনসের রিয়াদ থেকে নির্ধারিত চারটি ফ্লাইটই বাতিল হয়েছে বা পরিচালিত হয়নি। কাতার এয়ারওয়েজের আটটির মধ্যে তিনটি, ইজিপ্টএয়ারের চারটির মধ্যে দুটি এবং ওমান এয়ারের তিনটির মধ্যে একটি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের নির্ধারিত দুটি ফ্লাইটই বাতিল হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়ার দুটি ফ্লাইটের একটিও পরিচালিত হয়নি। শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনস, ফিলিপাইন এয়ারলাইনস, ইয়েমেনিয়া ও এজেটের নির্ধারিত একটি করে ফ্লাইটও বাতিল হয়েছে বা পরিচালিত হয়নি।
রিয়াদে আসা আন্তর্জাতিক ফ্লাইটেও একই চিত্র। টার্কিশ এয়ারলাইনসের চারটি নির্ধারিত আগমন ফ্লাইটই বাতিল হয়েছে। ইজিপ্টএয়ারের চারটির মধ্যে দুটি, গালফ এয়ারের পাঁচটির মধ্যে একটি এবং ফ্লাইদুবাইয়ের তিনটির মধ্যে একটি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে গত সপ্তাহে ক্যাথে প্যাসিফিক দুবাই ও রিয়াদের ফ্লাইট বাতিলের সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে কয়েকটি মার্কিন ও ইউরোপীয় এয়ারলাইনও এখনো অঞ্চলটিতে ফ্লাইট পরিচালনা সীমিত রেখেছে।