ভারতীয় ভিসা স্থগিত, ইউরোপ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় সব দেশের নাগরিকদের ভিসা দেয়া স্থগিত ঘোষণা করেছে ভারত।

ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় টুইট করে এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

টুইটারের পোস্টের মাধ্যমে জানানো হয়, কূটনৈতিক কর্মকর্তা, জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত ব্যক্তিদের ভিসা বাদে ভারতের অন্য সব ধরণের ভিসা ১৫ই এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত করা হলো। ১৩ই মার্চ থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

ভারতে প্রবেশ করা ব্যক্তিদের অন্তত ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টিন করা হতে পারে এবং জরুরি প্রয়োজন না থাকলে যেন ভারতে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকে মানুষ।

১৫ই ফেব্রুয়ারির পর থেকে চীন, ইটালি, কোরিয়া, ফ্রান্স, স্পেন ও জার্মানি ভ্রমণ করা ভারতীয় নাগরিকদের অন্তত ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টিন করা হবে।

অন্যদিকে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় ইউরোপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারির ঘোষনা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বুধবার টেলিভিশনে প্রচারিত এক বক্তব্যে তিনি ইউরোপ থেকে আগামী ৩০ দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ স্থগিত করার ঘোষণা দেন।

এই ‘কঠোর, কিন্তু প্রয়োজনীয়’ নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাজ্যের জন্য কার্যকর হবে না বলে তিনি জানান, যদিও যুক্তরাজ্যে ৪৬০ জনের মধ্যে এই ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে এরই মধ্যে ১ হাজার ১৩৫ জনের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে ৩৮ জন মারা গেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমাদের দেশের সীমানার মধ্যে নতুন ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি যেন প্রবেশ করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে ইউরোপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরণের ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেছি।”

“এই নতুন নিয়ম শুক্রবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর হবে।”

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ওপর করোনাভাইরাস যে প্রভাব ফেলেছে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ক্ষুদ্র আকারের ব্যবসাগুলোকে ঋণ দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন মি. ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি কী?
কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের জন্য সংক্রমণের ঝুঁকি কম থাকলেও এমাসের শুরুতে বেশ কিছু নতুন ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়ে যায়।

এরপর থেকেই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। নিউ ইয়র্ক শহরের উত্তরে নিউ রোচেলে, যেখানে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

ঐ এলাকায় যাদের সেল্ফ আইসোলেট বা স্বেচ্ছায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে বলা হয়েছে, তাদের কাছে খাবার পৌঁছে দেয়ার কাজ করবে ন্যাশনাল গার্ড।

ওয়াশিংটন রাজ্যের গভর্নর তার অধীনস্থ একাধিক কাউন্টিতে সব ধরণের জনসমাগম নিষিদ্ধ করেছেন। উত্তর-পশ্চিমের এই রাজ্যটি যুক্তরাষ্ট্রের করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্র। এখন পর্যন্ত মারা যাওয়া ৩৮ জনের অন্তত ২৪ জনই এই রাজ্যের বাসিন্দা ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সংক্রামক রোগ ও অ্যালার্জি বিষয়ক জাতীয় সংস্থার পরিচালক ডক্টর অ্যান্থনি ফওচি কংগ্রেসকে জানিয়েছেন যে পরিস্থিতির ‘আরো অবনতি হবে’, এবং তা নির্ভর করবে আক্রান্তদের কতটা সফলভাবে সংযত রাখা যায় তার ওপর।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে চিকিতসার খরচ ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকানোর ক্ষেত্রে একটি অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হতে পারে।

অনেক অ্যামেরিকানই ডাক্তারের কাছে যেতে চান না অতিমাত্রায় চিকিতসা খরচের ভয়ে।

এছাড়া কর্মক্ষেত্রে ছুটির পরিমাণ কম থাকাও একটি বড় কারণ। এছাড়া করোনাভাইরাস পরীক্ষা ক্ষেত্রে যথেষ্ট পরিমাণ সুযোগ না থাকাকেও কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

তবে এই দুর্যোগ সামাল দেয়ার জন্য গঠিত টাস্ক ফোর্সের সমন্বয়ক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বলেছেন ‘চিকিৎসকের নির্দেশনা থাকলে যে কোনো অ্যামেরিকানই পরীক্ষা করাতে পারবেন’, এবং স্বাস্থ্য বীমা সংস্থাগুলোও সেসব পরীক্ষার ব্যয় বহন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button