গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : চাঁদা দাবী ও গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়ের করা মামলায় শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমানের ছোট ভাই হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৮ মে) আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শ্রীপুরের একটি কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে চাঁদা দাবী ও গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল আলম রবিন এবং তার পরিবারকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ছড়ানোর অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করে শ্রীপুর থানায় দুটি মামলা হয়েছে।
গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল আলম রবিন বলেন, গত দুই বছর যাবত অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান আমাকেসহ আমার পরিবারের নামে মনগড়া বানোয়াট কল্পকাহিনী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে আসছিল। একের পর এক উদ্ভট এবং সাজানো তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে প্রচার করায় আমি সপরিবারে ও রাজনৈতিকভাবে মানহানির শিকার হচ্ছি। এ ঘটনা আমি নিজে বাদী হয়ে রোববার দিবাগত রাতে শ্রীপুর থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে একটি মামলা দায়ের করেছি।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিয়াকত আলী জানান, শ্রীপুরের গিলারচালা এলাকার এসরোটেক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামান্না তাহমিনা তানজিনা বাদী হয়ে চাঁদা দাবীর অভিযোগে গ্রেপ্তার আনিছুর রহমানের নামে রোববার একটি মামলা করেছেন। ঝুট ব্যবসা দেয়া না হলে প্রতি মাসে ওই অভিযুক্তকে একটি নির্দিষ্ট অংকের টাকা চাঁদা হিসেবে দিতে হবে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বাদী হয়ে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে একটি মামলা করেন।
গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক রাজীব দাস সাংবাদিকদের জানান, মামলার প্রেক্ষিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সহযোগিতা করেছে। রোববার দিবাগত রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত হাফিজুর রহমানের অপর ভাই মোখলেছুর রহমান বলেন, প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় আদালতে সোমবার জামিন আবেদন করা হয়েছিল। আদালত না মঞ্জুর করেছেন। আর এসরোটেক্স লিমিটেড কর্তৃপক্ষের সাথে আমার ভাইয়ের ফোনে কী কথোপকথন হয়েছে তা আমি জানি না। এ মামলার ঘটনা আমাদের জানা নেই। আমরা বিষ্মিত, আইনগতভাবে এগিয়ে যাচ্ছি।
প্রসঙ্গত, অভিযুক্ত হাফিজুর রহমানের বড় ভাই ও শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমান গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল আলম রবিনের আপন ফুফা। জাহিদুল আলম রবিনও আসন্ন শ্রীপুর পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে কয়েকবছর যাবত পৌর এলাকায় গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন।