গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : ‘সুবর্ণজয়ন্তীর অঙ্গীকার ডিজিটাল গ্রন্থাগার’ এই প্রতিপাদ্যে নানা আয়োজনে দেশব্যাপী আজ ‘জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস-২০২২’ উদযাপন করা হয়েছে।

এরই অংশ হিসেবে শনিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ‘কালীগঞ্জ কেন্দ্রীয় পাঠাগার’ পরিদর্শন করেছেন ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার খলিলুর রহমান।

উপজেলা প্রশাসন ও পাঠাগার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে দেড়টার দিকে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ‘কালীগঞ্জ কেন্দ্রীয় পাঠাগার’ পরিদর্শন করেছেন। সে সময় পাঠাগারে ১৫-২০ জন পাঠক অবস্থান করছিল। পুরো পাঠাগার পরিদর্শন শেষে বিভাগীয় কমিশনার খলিলুর রহমান সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

সে সময় আরো উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব ও এলএ) মামুন সরদার, কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসসাদিকজামান ও কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীনা আক্তার প্রমূখ।
উল্লেখ্য: শিক্ষার প্রসারে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘কালীগঞ্জ কেন্দ্রীয় পাঠাগার’ ২০২১ সালের ২৭ অক্টোবর (বুধবার) বিকেলে পাঠাগার চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কালীগঞ্জ কেন্দ্রীয় পাঠাগারের শুভ উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তৎকালীন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শিবলী সাদিকের উদ্যোগে ও স্থানীয়দের অর্থায়নে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের তত্বাবধানে নির্মিত ২১’শ বর্গফুট আয়তনের এক কক্ষবিশিষ্ট আধুনিক সুবিধা সম্বলিত পাঠাগারের মূল ভবন নির্মিত হয়েছে। পাঠাগারের সম্পূর্ণ নির্মাণ কাজে ব্যয় হয়েছে প্রায় এক কোটি টাকা।
কালীগঞ্জ পুরাতন ব্যাংকের মোড় এলাকায় কালীগঞ্জ আর আর এন পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ২.৫ বিঘা জমির চারদিকে ৮ ফুট উচ্চতার সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে অত্যাধুনিক নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে কালীগঞ্জ কেন্দ্রীয় পাঠাগার। নির্মিত কালীগঞ্জ কেন্দ্রীয় পাঠাগারের মূল ভবনের দৈর্ঘ্য ৬০ ফুট ও প্রস্থ ৩৫ ফুট। ভেতরে বঙ্গবন্ধু কর্নার ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার নির্মাণ করা হয়েছে। বই রাখার জন্য পাঠাগারের দুই দেয়ালে অত্যাধুনিক তাক (সেলফ) নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও বই রাখার জন্য ছোট ছোট তাক বিশিষ্ট বৃত্তা আকৃতির (গোলাকার) অত্যাধুনিক চারটি টেবিল এবং বৃত্তা আকৃতির তিনটি পিলারে তাক নির্মাণ করা হয়েছে। বাহিরে খোলা জায়গায় রয়েছে “ময়েজউদ্দিন মুক্তমঞ্চ”। এছড়াও বই আকৃতির একটি ফলক ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে।
পাঠাগারের ভেতর ও বাহিরের চিত্র
কালীগঞ্জ কেন্দ্রীয় পাঠাগারে প্রবেশ করার জন্য প্রধান সড়ক থেকে নতুন নির্মিত ১০ ফুট প্রস্থ এবং ১৪৭ ফুট দৈর্ঘ্য একটি সড়ক পারি দিতে হবে। এরপর প্রবেশদ্বারে রয়েছে দুই কপাট বিশিষ্ট কাঠের দরজা। কপাটের ভেতরেই ২১’শ বগফুট আয়তনের নির্মিত (ভবন) পাঠাগার। সড়কের বা দিকে নির্মাণ করা হয়েছে সম্পূর্ণ টাইলস দিয়ে দৃষ্টিনন্দন বই আকৃতির একটি ফলক ভাস্কর্য। এর পাশেই ফুলের বাগান করা হবে। আর ডান দিকে রয়েছে সম্পূর্ণ ঢালাই করা বিশাল খোলা জায়গায়। খোলা জায়গায় রয়েছে ময়েজউদ্দিন মুক্তমঞ্চ। পাঠাগারের প্রবেশের পর প্রথমেই চোখে পড়বে দৃষ্টিনন্দন বঙ্গবন্ধু কর্নার। এতে এমনভাবে বঙ্গবন্ধুর ছবি উপস্থাপন করা হয়েছে যেন জীবন্ত বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ডায়াসে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিচ্ছেন। এর ডান দিকে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার। এছাড়াও রয়েছে অভ্যর্থনা বুথ এবং অফিস কক্ষ। বই রাখার জন্য দুই দেয়ালে নির্মাণ করা হয়েছে ২৮ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৮ ফুট উচ্চতার এবং ৩৫ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৮ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট মেলামাইন বোর্ডের তৈরী তাক (শেলফ)। এছাড়াও বই রাখার জন্য ছোট ছোট তাক বিশিষ্ট বৃত্তা আকৃতির চারটি টেবিল ও বৃত্তা আকৃতির তিনটি পিলারে অত্যাধুনিক তাক নির্মাণ করা হয়েছে। টেবিলের বাহিরে দিকে বই রাখা আর ভেতরে বসে পাঠকরা। টেবিলের মাঝখানে পাতাবাহারের গাছ স্নিগ্ধতা ছড়াচ্ছে। সব মিলে পাঠাগারের বিভিন্ন তাকে ছোট-বড় প্রায় ৫০ হাজার বই সংরক্ষণ করা যাবে। পুরো পাঠাগারে অভ্যন্তরীণ নকশা (ইন্টেরিয়র ডিজাইন) করা হয়েছে। রয়েছে অত্যাধুনিক আলোকসজ্জার ব্যবস্থা। রয়েছে সংবাদপত্র পড়ার ব্যবস্থা।
আরো জানতে…….
‘কালীগঞ্জ কেন্দ্রীয় পাঠাগার’ উদ্বোধন করলেন মেহের আফরোজ চুমকি
শিক্ষার প্রসারে উদ্বোধনের অপেক্ষায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘কালীগঞ্জ কেন্দ্রীয় পাঠাগার’