কালীগঞ্জে ফিল্ম স্টাইলে বসত বাড়িতে ও দোকানে হামলা-লুটপাট, ব্যবসায়ী আহত

কালীগঞ্জে ফিল্ম স্টাইলে বসত বাড়িতে ও দোকানে হামলা-লুটপাট, ব্যবসায়ী আহত

নিজস্ব সংবাদদাতা : কালীগঞ্জে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থাকা একদল উশৃংখল ও বখাটে যুবক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ফিল্ম স্টাইলে এক বসত বাড়িতে ও দোকানে গিয়ে হামলা ও ভাংচুর চালিয়ে স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয় এবং ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে নগদ অর্থ লুট করে। এ ঘটনায় ১৪ জনের নামে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। পরে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নেমেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতে কালীগঞ্জ থানায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়েছে {মামলা নাম্বার (৯(৭)২৩}।

আহত ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম মিন্টু।

আহত ব্যবসায়ী বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের খলাপাড়া এলাকার নাজিম উদ্দিনের ছেলে শফিকুল ইসলাম মিন্টু (৩১)। তিনি খলাপাড়া ন্যাশনাল জুট মিল এলাকায় পশু খাদ্যের ব্যবসা করেন।

মামলার বাদি আহত ব্যবসায়ীর শফিকুল ইসলাম মিন্টুর পিতা নাজিম উদ্দিন।

অভিযুক্তরা হলো খলাপাড়া এলাকার মৃত আব্দুস ছাত্তার দর্জির ছেলে জুবায়ের হোসেন ওরফে জাহিদ (৩০), নাহিদ (৩৩) ও আনিসুর রহমান ওরফে আনিস (৩৬), ফজলুল হকের ছেলে ফয়সাল মিয়া (২৬), বাদলের ছেলে হৃদয় (২৫), হারিছের ছেলে সৌরভ (২২),দুলালের ছেলে শাকিল (২৮), বাচ্চুর ছেলে রামিন (২০), স্থানীয় সবুজ (২০), তোফাজ উদ্দিনের ছেলে তুহিন (২০), হুমায়ুনের ছেলে সঞ্জীব (২২), বাদলের ছেলে তন্ময় (২০), জাকিরের ছেলে রাজন (২০) এবং তোফাজ্জলের ছেলে তুষার (২২। এছাড়াও অজ্ঞাত আরো ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযুক্তদের মধ্যে অনেকেই উশৃংখল ও বখাটে হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তারা এলাকার প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়ায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম মিন্টুর বড় ভাই রুবেল (৩৫) এবং স্থানীয় কাদিরের ছেলে রাকিবের (২৩) সঙ্গে গত ১১ জুলাই (মঙ্গলবার) বিকেলে অভিযুক্ত ফয়সাল মিয়ার তর্কবিতর্ক হয়। এর জেরে পরদিন অর্থাৎ ১২ জুলাই (বুধবার রাত ৮টার দিকে ফিল্ম স্টাইলে দলবলসহ অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র দা, লাঠি, লোহার রড, চাইনিজ কুড়াল, চাপাতি নিয়ে খলাপাড়া এলাকায় রাকিবের বসত বাড়িতে গিয়ে তার খোঁজ করে। পরে তাকে না পেয়ে অভিযুক্তরা তার বাড়িতে অন্তর্কিত হামলা চালায়। সে সময় তারা বসত বাড়িতে থাকা ফ্রিজ, টিভি, আলমারি ও খাট ভাংচুর করে নগদ ১ লাখ ২২ হাজার টাকা লুট করে। সে সময় রাকিবের মা হামিদা বেগম (৪০) তাদের প্রতিরোধ করতে চাইলে তাকেও মারধর করে তার স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল ছিনিয়ে নেয় এবং রাকিব ও তার পিতাকে কোথায়ও পেলে হত্যা করবে এমন হুমকি দিয়ে চলে যায় অভিযুক্তরা।

পরবর্তীতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে অভিযুক্তরা শফিকুল ইসলাম মিন্টুর দোকানে গিয়ে তার ভাই রুবেলকে খুঁজতে থাকে। সে সময় রুবেলকে না পেয়ে অভিযুক্তরা মিন্টুর উপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে মিন্টুকে হত্যার উদ্দেশ্যে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরতর জখম করে ফেলে রাখে অভিযুক্তরা। পরে দোকানের ক্যাশ বক্সে থাকা নগদ ১৭ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। এরপর স্থানীয়রা মিন্টুকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ত গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় রেফার্ড করেন। বর্তমানে সে আশঙ্ক জনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম লিটন‌ বলেন, মামলা দায়ের পর থেকে আসামিরা পলাতক রয়েছে। এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযানে অব্যাহত রয়েছে।

 

আরো জানতে…….

কালীগঞ্জে এবিএল কোম্পানির নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর, থানায় অভিযোগ