একুশের ভোরে সর্বোচ্চ উচ্চতায় উঠল বিজয় নিশান

একুশের ভোরে সর্বোচ্চ উচ্চতায় উঠল বিজয় নিশান

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : একুশের ভোর মানেই আবেগের ভোর। খালি পায়ে শহিদ মিনারের পথে মিছিল, হাতে ফুল, বুকে ভাষার টান। ঠিক সেই আবেগঘন প্রভাতে কালিয়াকৈরে সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমির প্রাঙ্গণে আকাশছোঁয়া এক পতাকাদণ্ড মাথা তুলল। নাম— ‘চির উন্নত বিজয় নিশান’।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ নবনির্মিত এই পতাকাদণ্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

কর্তৃপক্ষের দাবি, ১২০ ফুট উচ্চতার এই পতাকাদণ্ডটি এখন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ।

সেই দণ্ডে উড়ছে ২৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৬.৮ ফুট প্রশস্ত জাতীয় পতাকা। লাল-সবুজের সেই পতাকা একাডেমি প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে থাকা প্রশিক্ষণার্থীদের বুকে যেন নতুন করে জ্বালিয়ে দিল দেশপ্রেমের আগুন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মহাপরিচালক স্মরণ করিয়ে দিলেন এক বিশেষ তথ্য। তিনি জানান, ভাষাশহিদ আব্দুল জব্বার ছিলেন এই বাহিনীরই একজন গর্বিত প্লাটুন কমান্ডার। বললেন, ‘ভাষার মর্যাদা রক্ষায় তাঁর মহান আত্মত্যাগ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের জন্য দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ও আত্মত্যাগে অনুপ্রাণিত হওয়ার পাথেয়।’ একুশের মঞ্চে সেই কথায় নিঃশব্দ হয়ে গেলেন উপস্থিত সকলে।

বাহিনীর সাম্প্রতিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরলেন তিনি। জানালেন, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনসার-ভিডিপির প্রায় পাঁচ লাখ সত্তর হাজার সদস্য-সদস্যা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেছেন, যা অংশগ্রহণকারী সব বাহিনীর মধ্যে সর্বোচ্চ।

‘চির উন্নত বিজয় নিশান’ শুধু একটি পতাকাদণ্ড নয়— এই বার্তাই বারবার উঠে এল অনুষ্ঠানে। মহাপরিচালকের ভাষায়, ‘এটি আমাদের গৌরবময় ইতিহাস ও দায়িত্বশীল ভবিষ্যতের প্রতীক। এই পতাকা আমাদের প্রতিটি সদস্যকে শপথ করাবে— দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা সর্বদা প্রস্তুত।’

ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে পাথেয় করে পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের চেতনা আমাদের আত্মমর্যাদা ও অধিকার রক্ষার সংগ্রামের শিক্ষা দেয়।’

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে একাডেমির সদস্যরা সমবেত কণ্ঠে শপথ নেন। তারপর একে একে উঠতে থাকে জাতীয় পতাকা। একুশের নীল আকাশে সেই লাল-সবুজ পতাকা যেন বলে উঠল— ভাষার লড়াই শেষ হয়নি, চলবে চিরকাল।