শিগগিরই খুলছে না মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

ই দেশের প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে বসেছেন, ফলে শ্রম চুক্তি ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রক্রিয়া আরও বেগবান হবে।

শিগগিরই খুলছে না মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরকে কেন্দ্র করে শ্রমবাজার দ্রুত খোলার প্রত্যাশা তৈরি হলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না।

নিয়োগ পদ্ধতি চূড়ান্ত ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার আগে শ্রমবাজার খোলার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে দুই দেশের কূটনৈতিক সূত্র।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহীমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে শ্রমবাজার দ্রুত খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তারেক রহমান। তবে দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ের সূত্র জানাচ্ছে, এখনই বা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে শ্রমবাজার খোলার কোনো সম্ভাবনা নেই।

সূত্র জানিয়েছে, মালয়েশিয়া সরকার এখন সম্পূর্ণ নতুন একটি পদ্ধতিতে সব দেশ থেকে কর্মী নিতে চায়। নতুন পদ্ধতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির। তবে সেই ব্যবস্থা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আগের এফডব্লিউসিএমএস প্ল্যাটফর্মে নতুন করে কর্মী নিতে আগ্রহী নয় দেশটি।

কূটনৈতিক সূত্র বলছে, বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য গণহারে প্রবেশের চ্যানেলটি আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় আলোচনার অপেক্ষায় স্থগিত রয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়াম সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, মালয়েশিয়া এ মুহূর্তে শুধু বাংলাদেশ নয়, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানসহ সব দেশের শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াই পর্যালোচনা করছে।

২০২৪ সালের ১ জুন শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ার সময় প্রায় ১৭ হাজার বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে পারেননি। তাঁদের মধ্য থেকে ৭ হাজার ৮৭৩ জনকে পাঠানোর দায়িত্ব পেয়েছে সরকারি সংস্থা বোয়েসেল। গত বছরের নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার জন যেতে পেরেছেন। বাকি প্রায় পাঁচ হাজার কর্মীকে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ দেবে মালয়েশিয়া।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘যারা বাকি রয়েছেন, সেই পাঁচ হাজারের মতো কর্মীর জন্য ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হচ্ছে। যেকোনো সেক্টরে এসে তাঁরা কাজ করতে পারবেন।’

সংবাদ মাধ্যম উল্লেখ করেছে, ২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর সই হওয়া দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তির মেয়াদ এ বছরই শেষ হচ্ছে। চুক্তি নবায়নের আগে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে কর্মীর সংখ্যা, প্রক্রিয়া ও শর্ত চূড়ান্ত করতে হবে। অতীতে চুক্তির পরপরই শ্রমবাজার খোলার নজির নেই।

উপদেষ্টা মাহাদী আমিন সংবাদ মাধ্যমকে আরও বলেন, ‘আজকে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে বসেছেন, ফলে শ্রম চুক্তি ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রক্রিয়া আরও বেগবান হবে।’

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দীর্ঘদিন ধরেই সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে থাকার অভিযোগ রয়েছে। ২০০৮, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে তিন দফায় বন্ধ হওয়া এই বাজার প্রতিবারই খুলতে বছরের পর বছর লেগেছে। জনশক্তি রফতানিকারকদের একাংশ সিন্ডিকেটমুক্ত ও স্বচ্ছ একটি শ্রমবাজারের দাবি জানিয়ে আসছেন।