গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
দুর্নীতির অভিযোগে এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও ক্রমবর্ধমান জনরোষের মুখে পদত্যাগ করেছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ। রাজধানী বেলগ্রেডে প্রেসিডেন্টের বাসভবনের বাইরে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন। নয় বছরের শাসনামলে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
ভুচিচ জানিয়েছেন, আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনে নিজের দল প্রগ্রেসিভ পার্টির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হবেন। সংবিধান অনুযায়ী তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার সুযোগ তাঁর নেই। গত জুনেই তিনি পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী পদে জিতলে দলের শীর্ষ নেতৃত্বে তাঁর অবস্থান ধরে রাখার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
দুই দফা ভোট
ভুচিচের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল আগামী বছর। এখন সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট পদত্যাগের তিন মাসের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে। ভুচিচ বলেছেন, অক্টোবরের শেষ দিকে নির্ধারিত সংসদীয় নির্বাচনের এক মাসের কিছু বেশি সময় পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে। ফলে চলতি বছরে দুবার ভোট দিতে হবে সার্বিয়ার নাগরিকদের।
নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন সংসদের স্পিকার আনা ব্রনাবিচ। তিনিও প্রগ্রেসিভ পার্টির নেতা।
ক্ষমা নিয়ে প্রশ্ন
সার্বিয়ার সরকারি গণমাধ্যম আরটিএস জানিয়েছে, পদত্যাগের আগে সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ৪৯ জনকে ক্ষমা করেছেন ভুচিচ। ক্ষমা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২৩ জন শিক্ষার্থী এবং তাঁর দলের অনুগত নেতা-কর্মীরাও আছেন। তাঁদের অনেকের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ছিল।

বিক্ষোভের সূত্রপাত
২০২৪ সালে নোভি সাদ রেলস্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জন নিহত হন। সংস্কারের পর স্টেশনটি সার্বিয়ার অগ্রগতির প্রতীক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিরোধীদের মতে, ওই দুর্ঘটনা প্রগ্রেসিভ পার্টির এক দশকের বেশি সময়ের শাসনের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরেছে। এ ঘটনায় সরকারবিরোধী ক্ষোভ ফেটে পড়ে। ছাত্র-শিক্ষক থেকে শ্রমিক-কৃষক পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের মানুষ বিক্ষোভে যোগ দেন।
জনরোষ কমাতে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা একে একে পদত্যাগ করেন। তবে তাতে বিক্ষোভ থামেনি, পুরো গ্রীষ্মজুড়ে তা চলতে থাকে। আন্দোলন দমনে পুলিশ মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই সময় পুলিশের বিরুদ্ধে হামলা ও নির্যাতনের নানা অভিযোগ ওঠে। বিক্ষোভকারীরা সরকারের পদত্যাগ এবং নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দাবি জানান।
নির্বাচনে যাঁরা লড়ছেন
সংসদীয় নির্বাচনে ভুচিচের দলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে আছে ‘স্টুডেন্টস উইন’। দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীরা এ দল গঠন করেছেন। এ ছাড়া পশ্চিমাপন্থী বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইউরোপিয়ান সার্বিয়া’ও নির্বাচনে অংশ নেবে।
ভুচিচের রাজনৈতিক পথচলা
গত এক দশকের বেশি সময় ধরে সার্বিয়ার রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ মুখ ভুচিচ। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। ২০১৭ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। রুশপন্থী এই জনতুষ্টিবাদী নেতা প্রকাশ্যে সার্বিয়াকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে যুক্ত করার কথা বলে থাকেন। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং চীনা বিনিয়োগের দরজাও খোলা রাখতে চান তিনি।
সূত্র: বিবিসি