কাপাসিয়ায় সমিতির টাকা নিয়ে সভাপতি উধাওয়ের অভিযোগ, তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি

কাপাসিয়ায় সমিতির টাকা নিয়ে সভাপতি উধাওয়ের অভিযোগ, তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি

বিশেষ প্রতিনিধি

কাপাসিয়ায় একটি সমবায় সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে সদস্যদের প্রায় তিন কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে জেলা সমবায় অফিস। তবে সমিতির সদস্যসংখ্যা, মূলধন ও কার্যক্রম নিয়ে জেলা সমবায় কর্মকর্তার বক্তব্যে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।

অভিযুক্ত আবুল হাসেম শুভেচ্ছা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের সভাপতি। সদস্যদের অভিযোগ, ১৭ সেপ্টেম্বর সমিতির কার্যালয়ে তালা দিয়ে চলে যান তিনি। এরপর থেকে অফিস বন্ধ।

গাজীপুর জেলা সমবায় কর্মকর্তা আরিফা সুলতানা শিপা বুধবার দুপুরে জানান, মঙ্গলবারের পরিদর্শন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওই দিনই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে আছেন উপসহকারী নিবন্ধক মনিরা আখতার, পরিদর্শক মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও সহকারী পরিদর্শক রায়হান উদ্দিন।

উপজেলা প্রতিবেদনে সমিতির মূলধন প্রায় তিন কোটি টাকা ও সদস্য ৪৯৬ জন উল্লেখ আছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আরিফা সুলতানা বলেন, তিনি অবগত নন। জেলা অফিসের আনুষ্ঠানিক কোনো জরিপ নেই বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, নিবন্ধন দেওয়ার পর সব ধরনের কার্যক্রম চলে।

সমিতি তালাবদ্ধ এবং সভাপতি টাকা নিয়ে চলে গেছেন, এ বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁর কাছে লিখিত বা আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ আসেনি। সমিতিটি উপজেলার অধীনে হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ পেলে তিনি ব্যবস্থা নেবেন।

দুটি মামলা হয়েছে, এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমবায় সমিতি একজন সদস্য দিয়ে চলে না, সেখানে ব্যবস্থাপনা কমিটি থাকে। একজন চলে গেলেও সমিতি বন্ধ থাকার কথা নয়। তালাবদ্ধ থাকলে ব্যবস্থাপনা কমিটির লোকজন তা পরিচালনা করতে পারবেন।

সোমবার বিকেলে কাপাসিয়ার রাওনাট বাজারে গিয়ে দেখা যায়, তিনতলা ভবনের নিচের দোকান ও ওপরের সমিতির কার্যালয়ে তালা ঝুলছে। জমা টাকা ফেরত পেতে সেখানে প্রতিদিন অপেক্ষা করছেন সদস্যরা। দুজন সদস্য থানায় ও আদালতে মামলা করেছেন।

বরুন গ্রামের সালমা বেগম ও সুবর্ণা আক্তার জানান, তাঁরা দুজন মিলে এক লাখ আট হাজার টাকা রেখেছিলেন। চাপাত মাঝিবাড়ির নিখিল দাসের জমা ছিল দুই লাখ ১০ হাজার টাকা। ফুলবাড়িয়া গ্রামের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাঁর ছয় লাখ টাকা জমা আছে।

স্থানীয় রাওনাট বাজার সমিতির সভাপতি সফিকুল আলম বলেন, “অনেক নারী-পুরুষ সারা দিন সমিতির সামনে অপেক্ষা করছেন জীবনের শেষ সম্বলটুকু উদ্ধারের জন্য।”

সমবায় অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে ১০৯৮ নম্বর নিবন্ধনের মাধ্যমে সমিতির কার্যক্রম শুরু হয়। দুর্গাপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের সাতটি ইউনিয়নের মানুষ এর সদস্য।

সদস্যদের দাবি, গত বছর সদস্য ছিলেন ৪৯৬ জন, এখন প্রায় এক হাজার। ১৫ শতাংশ মুনাফার কথা শুনে অনেকে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে সমিতিতে জমা দিয়েছেন। তাঁদের হিসাবে সমিতির মূলধন এখন প্রায় ১০ কোটি টাকা। এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

কাপাসিয়া উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মাহফুজুল আমিন আগে জানিয়েছিলেন, সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী আবুল হাসেম তিন কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছেন এবং তাঁর মুঠোফোন বন্ধ। আবুল হাসেমের বয়স ৪৬ বছর। বাড়ি কাপাসিয়ার দড়িমেরুন গ্রামে, বাবার নাম মৃত আবদুল হাই।

আরো জানতে…….