গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে ফের বন্দুকধারীর হামলা। মিশিগানের মর্মন গির্জায় ঢুকে এক বন্দুকধারীর এলোপাথাড়ি গুলিতে অন্তত ৪ জন নিহত এবং ৮ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশের পাল্টা গুলিতে বন্দুকধারীও নিহত হয়েছে। জনগণের জন্য আপাতত আর কোনও হুমকি নেই বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোববার সকালে ডেট্রয়েট থেকে ৬০ মাইল উত্তরপশ্চিমে গ্র্যান্ড ব্ল্যাঙ্ক শহরে জেসাস ক্রাইস্ট লেটার-ডে সেইন্ট (এলডিএস) বা মর্মন গির্জায় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তি চলন্ত গাড়ি নিয়ে সামনের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে, এরপর আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেলে দিয়ে গুলি ছোড়ে। ৪০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি চার্চে আগুন লাগিয়ে দেয়। ঘটনার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এতে অন্তত চারজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে সন্দেহভাজনও নিহত হয়েছেন।
রয়টার্স জানিয়েছে, সন্দেহভাজনকে টমাস জ্যাকব সানফোর্ড (৪০) বলে শনাক্ত করা হয়েছে। সানফোর্ড মার্কিন মেরিনের সাবেক সদস্য। থাকতেন নিকটবর্তী শহর বার্টনে। তার দেওয়া আগুনে গির্জাটি দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে আর ধোঁয়া বের হতে থাকে।
বন্দুক হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম জানানো হয়নি। তদন্তকারীরা বলেছেন, তারা হামলার উদ্দেশ্য জানার চেষ্টা করছেন। তারা বন্দুকধারীর সেল ফোন রেকর্ড ও জিনিসপত্র খুঁজছেন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গোলাগুলিতে দুইজন নিহত ও আটজন আহত হন। এর কয়েক ঘণ্টা পর ভস্মীভূত গির্জার ভেতর থেকে আরও দুটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। গির্জাটি তখনও পরিষ্কার করা হয়নি এবং সেখানে আরও মৃতদেহ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তদন্তে সহায়তা করতে ১০০ এফবিআই এজেন্টকেও কাজে নামানো হয়েছে বলে জানিয়েছে গ্র্যান্ড ব্ল্যাঙ্কের পুলিশ। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই-এর পরিচালক ক্যাশ প্যাটেল চার্চে হামলার ঘটনাটিকে ‘কাপুরুষোচিত এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড’ আখ্যা দিয়েছেন।
গ্র্যান্ড ব্ল্যাঙ্ক শহরের পুলিশ প্রধান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, “কিছু মানুষের খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি।”
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব অ্যালকোহল, টোব্যাকো, ফায়ারআর্মস এন্ড এক্সপ্লোসিভের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তদন্তকারীদের বিশ্বাস বন্দুকধারী গির্জায় আগুন ধরাতে গ্যাসোলিনের মতো কোনো অতি দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করেছিলেন আর কিছু বিস্ফোরকও উদ্ধার হয়েছে।
এতে তদন্তের দিক তাদের বিবেচনায় ‘পরিকল্পিত সহিংসতার’ দিকে ঘুরে গেছে বলে এফবিআই জানিয়েছে।
সানফোর্ড যখন তার চলন্ত গাড়ি নিয়ে গির্জায় ঢুকে পড়েন তখন সেখানে কয়েকশ মানুষ ছিলেন বলে গ্র্যান্ড ব্ল্যাঙ্কের পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন।
তিনি জানান, জরুরি কল পাওয়ার ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে দুইজন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা সন্দেহভাজনকে গোলাগুলির মধ্যে লিপ্ত করে ফেলেন আর ঘটনা শুরুর প্রায় আট মিনিটের মাথায় একটি পার্কিং লটে তাকে গুলি করে হত্যা করেন।
তদন্তকারীরা সানফোর্ডের বাড়িতে ও তার ফোনে তল্লাশি চালিয়ে হামলার সম্ভাব্য কারণ নির্ধারণের চেষ্টা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক রেকর্ড থেকে দেখা গেছে সানফোর্ড ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত মার্কিন মেরিনের সদস্য ছিলেন এবং ইরাক যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন।