কালীগঞ্জে শিক্ষার্থী ও বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার

কালীগঞ্জে শিক্ষার্থী ও বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক

কালীগঞ্জে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এক শিক্ষার্থী ও এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নাগরী ইউনিয়নের দুটি গ্রাম থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত দুজন হলেন নাগরী ইউনিয়নের ভূরুলিয়া গ্রামের বিভাস গমেজের মেয়ে নিশি ক্যাথরিনা গমেজ (১৮) এবং সাভার থানার ধরেন্ডা এলাকার সুকু ডি রোজারিওর স্ত্রী দিপ্তী মনিকা ক্রুশ (৬৬)।

নিহত নিশি ক্যাথরিনা কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। 

নিহত বৃদ্ধা দিপ্তী মনিকার পৈতৃক বাড়ি নাগরী ইউনিয়নের ধনুন গ্রামে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে ফাঁকা বাড়িতে নিশি ক্যাথরিনাকে তার কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্বজনেরা। পরে দরজা খুলে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। খবর পেয়ে বেলা একটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, প্রণয়ঘটিত বিষয় নিয়ে মনোমালিন্যের জেরে নিশি ক্যাথরিনা আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

এর কয়েক ঘণ্টা পর পাশের ধনুন গ্রামে নিজের পৈতৃক বাড়িতে দিপ্তী মনিকা ক্রুশকে ঘরের ভেতর মৃত অবস্থায় দেখতে পান স্বজনেরা। খবর পেয়ে বিকেল চারটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে।

স্বজনেরা জানান, দিপ্তী মনিকা দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িতে বসবাস করছিলেন। তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন এবং নিয়মিত একাধিক ওষুধ সেবন করতেন। অতিরিক্ত ওষুধ বা বিষাক্ত কোনো পদার্থ সেবনের কারণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা স্বজনদের। 

হতাশা থেকেও তিনি এমন কিছু করে থাকতে পারেন বলে তাদের ধারণা। 

পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ দিপ্তী মনিকা ক্রুশের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে।

কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অপূর্ব কুমার বাইন বলেন, নিশি ক্যাথরিনা গমেজের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরদিকে দিপ্তী মনিকা ক্রুশের স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করা হয়েছে।