আন্তর্জাতিক

ইরানে সপ্তাহব্যাপী অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি নির্দেশ দেন তাহলে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কয়েক সপ্তাহব্যাপী দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অভিযান চালাবে দেশটির সামরিক বাহিনী।

দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছেন।

তারা জানিয়েছেন, এই সংঘাত দুই দেশের মধ্যে অতীতে দেখা যেকোনো সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর হতে পারে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তারা এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।

এর ফলে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ঝুঁকি আরও বেড়ে গেল।

আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার।

এরআগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শনিবার সতর্ক করে বলেছেন যে, ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী হলেও, এটি করা অত্যন্ত কঠিন।

এর আগে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন ইরানে সরকার পরিবর্তনই সবচেয়ে ভালো বিষয় হতে পারে। এদিন সন্ধ্যায় ফোর্ট ব্র্যাগে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, হামলা এড়াতে ইরানের উচিত ‘আমাদের এমন একটি চুক্তি দেওয়া, যা প্রথমবারেই তাদের দেওয়া উচিত ছিল।’

দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি সম্পর্কে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ‘ইরানের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে সব বিকল্পই খোলা রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি দেশের স্বার্থ এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন।’

পেন্টাগন এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবারের পরিকল্পনাটি অনেক বেশি জটিল। একজন কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘস্থায়ী অভিযানের ক্ষেত্রে মার্কিন সামরিক বাহিনী কেবল পারমাণবিক অবকাঠামো নয়, বরং ইরানের রাষ্ট্রীয় এবং নিরাপত্তা স্থাপনাগুলোতেও আঘাত হানতে পারে। তবে তিনি সুনির্দিষ্ট বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকার করেন।

এদিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ ও সর্বাধুনিক বিমানবাহী রণতরী দ্যা ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড খুব শিগগিরই ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

এ বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যম সোশ্যাল ট্রুথ- এ রণতরীটির আকাশ থেকে তোলা একটি ছবি শেয়ার করেছেন। এতে দেখা যাচ্ছে এটি মধ্যপ্রাচ্যের পথে রয়েছে, যেখানে আগে থেকেই আরেকটি মার্কিন রণতরী ইউএস আব্রাহাম লিংকন রয়েছে।

পেন্টাগন জানুয়ারিতে এই রণতরীটি সেখানে পাঠিয়েছিল। ওই সময় ইরানে গণবিক্ষোভ দমনে সরকারি অভিযানের প্রেক্ষাপটে হামলার হুমকি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওই দমন-পীড়নে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছিল।

ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন যে পারমাণবিক চুক্তি না হলে তিনি ইরানে হামলা চালাতে পারেন। তবে বুধবার হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করার জন্য চাপ দিচ্ছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর সরকার জোর দিয়ে বলছে যে, তেহরানকে তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং হেজবুল্লাহ কিংবা হামাসের মতো গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করতে হবে।

ইরান এখন পর্যন্ত ইঙ্গিত দিয়েছে যে দেশটির ওপর থাকা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি কিছুটা সীমিত করতে প্রস্তুত।

উল্লেখ্য ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এবারের এই বিক্ষোভের সময়েই সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। ওই বিপ্লবের মাধ্যমেই সর্বোচ্চ নেতার মাধ্যমে দেশটিতে ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।

সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button