
বিশেষ প্রতিনিধি : প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী, অভিনেত্রী ও নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওন বলেছেন, তিনি হুমায়ূন আহমেদের কাছ থেকেই শিখেছেন কেবল মানুষ নয়, প্রকৃতিকেও ভালোবাসতে হয়।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) গাজীপুরের নূহাশ পল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের ৭৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় শাওন এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “আমি হুমায়ূন আহমেদের কাছ থেকে শিখেছি— শুধু মানুষকে নয়, প্রকৃতিকেও কিভাবে ভালোবাসতে হয়। নূহাশ পল্লীর সৌন্দর্য কোনো স্থাপনার জন্য নয়, বরং গাছের জন্য। হুমায়ূন আহমেদ চেয়েছিলেন, বাংলাদেশের মাটিতে জন্মানো প্রায় সব প্রজাতির গাছ, বিশেষ করে ওষধিগাছ, এখানে যেন থাকে। সেই ধারাবাহিকতা এখনো বজায় আছে। প্রতিবছর এখানে ৩০০-রও বেশি গাছ লাগানো হয়।”
শাওন জানান, তিনি নিজেও নিয়মিত গাছ লাগান ও সেগুলোর যত্ন নেন। “আমি গত রাতেও নূহাশ পল্লীতে এসে দেখেছি, যে গাছগুলো দুই মাস আগে লাগিয়েছিলাম, সেগুলো কেমন বেড়ে উঠছে। আমার কাছে নূহাশ পল্লীর আসল সৌন্দর্য গাছের মধ্যেই,” বলেন তিনি।

হুমায়ূন আহমেদের অসমাপ্ত স্বপ্ন ও পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শাওন বলেন, “স্যারের লেখায় অনেক স্বপ্নের কথা ছিল। আমি চেষ্টা করেছি তাঁর কিছু স্বপ্ন পূরণ করতে, যেমন হুমায়ূন আহমেদ জাদুঘর স্থাপন। তবে বিষয়টি শুধু অর্থের নয়— এর সঙ্গে প্রশাসনিক ও নিয়মতান্ত্রিক অনেক জটিলতা জড়িত। আমি একা এসব সামলাতে পারিনি।”
তিনি আরও বলেন, “যারা তখন নীতিনির্ধারক ছিলেন, যদি তাঁদের মানসিক সমর্থন বা সহযোগিতা পেতাম, তবে হয়তো অনেক কাজ আগেই শেষ হতো। এটা আমার নিজের কাছেও কষ্টের বিষয়।”
এর আগে সকালে শাওন তাঁদের দুই পুত্র নিনিত ও নিষাদ হুমায়ূনকে নিয়ে হুমায়ূন আহমেদের কবর জিয়ারত করেন এবং জন্মদিনের কেক কাটেন। রাতে জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নূহাশ পল্লীতে এক হাজার ৭৭টি মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়।
সকাল থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও হুমায়ূন আহমেদের ভক্তরা নূহাশ পল্লীতে ভিড় করেন। তাঁরা নূহাশ পল্লী ঘুরে দেখেন এবং জন্মদিনের আয়োজন উপভোগ করেন।
প্রসঙ্গত, হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তিনি ২০১২ সালের ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।



